জীবিকার স্টিয়ারিং হাতে, সমাজসেবায় নিবেদিত দুই অটোরিকশাচালক

আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৫:০৬:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ০৫:০৮:৩৬ অপরাহ্ন
এস. এম. জালাল উদ্দীন, মৌলভীবাজার


জেলা প্রতিনিধি:


সারা দিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকার চাকা সচল রাখেন। দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরার বদলে হাতে তুলে নেন দা, কোদাল কিংবা বেলচা। রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ড্রেনের আবর্জনা অপসারণ, মাইলফলক ও দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড পরিষ্কার কিংবা ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের ডাল সরিয়ে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করাই যেন তাদের নিত্যদিনের স্বেচ্ছাসেবামূলক দায়িত্ব। লিখেছিলাম মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সম্মান গ্রামের দুই অটোরিকশাচালক খালেদ আলী ও তামিম ইকবালের কথা। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সহায়তা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমে জনস্বার্থে কাজ করে যাচ্ছেন। বিনিময়ে নেই কোনো পারিশ্রমিক বা স্বীকৃতির প্রত্যাশা। মানুষের উপকার করাই তাদের একমাত্র প্রাপ্তি।


উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রায়ই দেখা যায় এই দুই বন্ধুকে। কখনো রাস্তার দুই পাশের আগাছা কেটে চলাচলের পথ নিরাপদ করছেন, কখনো ড্রেন পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন। কোথাও দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড বা মাইলফলক ময়লায় ঢেকে গেলে সেটিও পরিষ্কার করে দিচ্ছেন, যাতে পথচারীরা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে পারেন। ঝড়-বৃষ্টির পর সড়কের ওপর পড়ে থাকা কিংবা ঝুলে থাকা গাছের ডালও নিজেরাই সরিয়ে ফেলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালেদ ও তামিমের এই মানবিক উদ্যোগে এলাকার মানুষ নিয়মিত উপকৃত হচ্ছেন। তাদের কাজ শুধু পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখছে না, বরং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি তাদের এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে উৎসাহিত করছে। খালেদ আলী বলেন, “অটোরিকশা চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। কাজের ফাঁকে যখন একটু সময় পাই, তখন মানুষের উপকার হয় এমন কিছু করার চেষ্টা করি। রাস্তা পরিষ্কার থাকলে সবাই নিরাপদে চলতে পারে, ড্রেন সচল থাকলে জলাবদ্ধতা কমে। মানুষের মুখে হাসি আর দোয়া পেলেই মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক।


” তামিম ইকবাল বলেন, “কেউ আমাদের এ কাজ করতে বলেনি। নিজের বিবেকের তাগিদ থেকেই করি। সমাজটা পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকুক, মানুষ স্বস্তিতে চলাফেরা করুক, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। ভালো কাজ করলে অন্যরাও একদিন এগিয়ে আসবে, সেই বিশ্বাস থেকেই কাজ করে যাচ্ছি।” ছেলের উদ্যোগের প্রশংসা করে খালেদ আলীর বাবা আবদুল মজিদ বলেন, “আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে। সংসারের দায়িত্ব পালন করার পরও মানুষের জন্য সময় বের করে। একজন বাবা হিসেবে আমি গর্বিত।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com