আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে এক ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি রাসায়নিক সার নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য ইউনিয়নে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাটের বিএডিসি ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়।
রবিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযোগের সত্যতা পান। এর আগে একই ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
জানা যায়, শনিবার সকালে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামের কৃষক হেদায়েতুল ইসলাম শতাধিক বস্তা রাসায়নিক সারবোঝাই দুটি ভুটভুটি দেখে সন্দেহ করেন। চালকদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সারগুলো কুন্দুগ্রাম ইউনিয়নের কড়ইহাটের বিএডিসি ডিলার মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজ থেকে উপজেলা সদরের মেসার্স খন্দকার ট্রেডার্সে নেওয়া হচ্ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামকে জানানো হলেও তিনি সারগুলো অন্য উপজেলার বলে দাবি করে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি। ফলে সার জব্দ কিংবা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরে ডিলার এম. এ. কাসেম সারগুলোর মালিকানা স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন দাবী করেন সারগুলো নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর বাজার থেকে আনা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ডিলার বলেন, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ও ডিলার-টু-ডিলার স্থানান্তরের বিধি অনুসরণ না করেই সার পরিবহন করা হচ্ছিল যা প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। অবশেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মেসার্স কাসেম এন্টারপ্রাইজকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে এবং গুদামটি সিলগালা করে দেয়।