লিটন পাঠান, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় হাতকড়াসহ মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ৬ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি পুলিশের হ্যান্ডকাফ। এর আগে মাধবপুর উপজেলায় চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতকড়াসহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই সময় স্থানীয় জনতার সঙ্গে ডিবি পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বটতলী বাজারের পূর্ব পাশে একটি ধানের জমিতে দেবনগর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে ও চিহ্নিত মাদক কারবারি জুয়েলকে সুকৌশলে আটক করে সাদা পোশাকে থাকা ডিবি পুলিশের দুই সদস্য। এ সময় তাকে হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়।
এ সময় জুয়েলের সঙ্গে ডিবি সদস্যদের ধস্তাধস্তি শুরু হলে দূর থেকে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদেরকে ছিনতাইকারী বা অপরিচিত ব্যক্তি মনে করে মারধর শুরু করে। পরে ডিবি সদস্যরা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় জনতা জুয়েলকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জুয়েলকে পুনরায় গ্রেপ্তার ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়ার মধ্যস্থতায় হ্যান্ডকাফ ফেরত দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে, এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খান এ ঘটনার দুই দিন আগেই সদর থানা থেকে ডিএসবিতে বদলি হয়ে গেছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া আমার জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় ওই দিন তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। তবে ডিবির একজন এসআইসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।