কাউখালীতে সামাজিক বনায়নের লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে লোপাটের অভিযোগ

আপলোড সময় : ২০-০৬-২০২৬ ০৪:৫৯:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৬-২০২৬ ০৫:০২:০৬ অপরাহ্ন
কাউখালী প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের কাউখালীতে উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান গাছ কেটে লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় বন বিভাগের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের সহযোগিতায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বেল, শিশু, আকাশমনি, মেহগনি, রেইন্ট্রি ও বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে এসব গাছের অনেকগুলোই পরিপক্ক হয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থমূল্যের সম্পদে পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই বছর আগে বন্যায় কিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি চক্র সেগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদের প্রতিবাদের মুখে বন বিভাগ ও প্রশাসন কিছু গাছ উদ্ধার করে এবং পরে টেন্ডারের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করা হয়। তবে এরপর থেকে বন বিভাগ সামাজিক বনায়নের গাছগুলোর তদারকিতে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি।

স্থানীয়দের দাবি, বেতকা থেকে উত্তর হোগলা পর্যন্ত এবং কালিগঙ্গা নদীর তীর থেকে উত্তর হোগলা নদীর পাড় পর্যন্ত রাস্তা ও নদীর তীরে থাকা শত শত মূল্যবান গাছ ধীরে ধীরে কেটে ফেলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত এক-দুটি করে গাছ কেটে গোড়াসহ অপসারণ করায় বর্তমানে অনেক স্থানই গাছশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সামাজিক বনায়নের গাছগুলো এলাকার সম্পদ। কিন্তু দিনের পর দিন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এক সময় রাস্তার দুই পাশে ঘন সবুজ গাছ ছিল। এখন অধিকাংশ গাছই কেটে ফেলা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।

এ বিষয়ে কাউখালী রেঞ্জের বন বিভাগের অফিসার শফিউর রহমান বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কাটার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি অবশিষ্ট গাছ সংরক্ষণে নজরদারি বাড়ানো হবে। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com