নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ১০:৩৭:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ১০:৩৭:১০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে ওই হাসপাতালে হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের যৌথ উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় হাসপাতালের ম্যানেজারকে আটক করে পুলিশ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ইমাম হোসেন বাবু (৩২) সেনবাগ উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় পাইপ পিটার মিস্ত্রি ছিলেন। নিহতের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ইমাম হোসেন বাবুর বুকের ব্যথা হলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন তারা। স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে মাইজদী প্রাইম হাসপাতালে নিতে পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী রোগীকে প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসক রোগীকে চিকিৎসা দিতে প্রায় ২ ঘণ্টা বিলম্ব করেন। ভর্তি করানোর পরে ইমার্জেন্সি যেসব চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর দরকার ছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাও করেননি। এক পর্যায়ে হাসপাতালের একজন নার্স রোগী ইমাম হোসেন বাবুকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইঞ্জেকশন পুশ করার পরপরই রোগীর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের অবহেলা ও গাফিলতির কারণেই ইমাম হোসেন বাবুর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে জড়ো হন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ায় বাবুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ করেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগ উঠেছে গত কয়েক মাস পূর্বেও চন্দ্রগঞ্জ এলাকার একজন গরিব রোগী প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে। আর্থিক রফা-দফার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি মীমাংসা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ডিউটিরত চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

হাসপাতালের এজিএম শিপন সেন, অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর আমরা থানা পুলিশ ও র‍্যাবকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আলোচনায় এটি সমঝোতা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, সেনাবাহিনীর উদ্বোধন ও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাকে অবহিত করলে আমরা হাসপাতালে যাই। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও র‍্যাব আসে। হাসপাতালের ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালের ম্যানেজার শিপন সেনকে আটক করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর সজনরা ঘটনাটি সমঝোতায় পৌঁছে মীমাংসা করে এবং তারা মামলা করবে না বলে আমাকে জানায়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com