ফ্যামিলি কার্ড রাষ্ট্রের বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি কমবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ০২:২৩:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ০২:২৩:১০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যামিলি কার্ডকে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না। এতে বরং মূল্যস্ফীতি কমবে। স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পূরক প্রশ্নে এনসিপির সংসদ সদস্য বলেন, ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে হলে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক খরচ হবে। আনুষঙ্গিক খরচসহ ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। আবার ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। সেখানে ৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। এটি দেশের অর্থনীতি কতটুকু স্বনির্ভর করবে? এ অর্থ কি বর্তমানে চলমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে কেটে এনে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে নাকি নতুন করে এ খাতে টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতি ঘটনার সম্ভাবনা আছে কিনা?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ ফ্যামিলি কার্ড গ্রহণ করেছে। আমরা পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেব। পৃথিবীর কোনো সরকারের কাছে একবারে এটা করা সম্ভব না। সবার তথ্য সংগ্রহ করে পর্যায় ক্রমিকভাবে আমরা কার্ড দেব। প্রথম পর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে বাজেট তৈরি করব এবং ধীরে ধীরে কার্ড দেওয়ার সংখ্যা বাড়াব। সে কারণে আমাদের হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী বাজেটের ওপর চাপ পড়ার তেমন কারণ নেই।

তিনি বলেন, বর্তমানে যতগুলো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু আছে, তার সবগুলোর অর্থ সহযোগিতা যোগ করা হলে ফ্যামিলি কার্ডের পরিমাণ আড়াই হাজার হবে না। অর্থের পরিমানে ফ্যামিলি কার্ডে টাকার পরিমাণ বেশি। আমরা গবেষণা করে দেখেছি কয়েকটি সুবিধা একই ব্যক্তি পাচ্ছেন। সেগুলোকে আমরা কাটডাউন করব, সবগুলোকে কাটডাউন করব না। যেগুলো রিপিটেশন আছে সেটা কেবল কাটডাউন করব। এভাবে করে ধীরে ধীরে নিয়ে যাব।

এসব সুবিধার কারণে দেশে মূল্যস্ফীতি হবে না বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা টাকা ছাপিয়ে দেব না। বরং এতে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ বলছেন জামা-কাপড় কিনবে, কেউ বলছে বাচ্চাদের জন্য বই কিনবে। যে মানুষগুলো পাচ্ছে তারা ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে না। তারা প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যবহার করে। তারা ব্যবহার করা জিনিসপত্র দেশে উৎপাদিত হয়। ফ্যামিলি কার্ডের টাকাটা গ্রামীণ অর্থনীতি ব্যবহার হবে। স্থানীয় শিল্পায়নে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা (ফ্যামিলি কার্ড) রাষ্ট্রের একটা বিনিয়োগ। যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্থানীয় শিল্প গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। তাই আমাদের হিসাব বলছে মূল্যস্ফীতি বাড়বে না, বরং কমবে।

বিএনপি দলীয় সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীন সিটি রূপে গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশ এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থানসমূহে সবুজায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষরোপন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে সমন্বিত সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তর করার মাধ্যমে সব বর্জ্যকে জিরো বর্জ্যতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেন্ট) উন্মুক্ত মিডিয়ান জিরো সয়েল-সবুজে আবৃত করা হচ্ছে। সিটির আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ বৃক্ষোরপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশ (মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (আবদুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত) নিচের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপন করা হবে। পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন এবং গ্রীণ সিটি রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

 
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com