নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ। গত ৩০ বছর ধরে যার কার্যক্রম চলছে একটি দোকানঘরে। একই অবস্থা টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের। ২৫ বছর ধরে একটি টিনসেট ঘরে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। এমন পরিস্থিতি জেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদের, যাদের নেই নিজস্ব কোনো ভবন বা কার্যালয়। নিজস্ব ভবন না থাকায় নাগরিক সেবা দেওয়া হচ্ছে দোকানঘরসহ ভাড়া করা কক্ষে। এতে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ওপর একটি দোকানঘরে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অস্থায়ী কার্যালয়টিতে পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, নথিপত্র রাখার নিরাপদ ব্যবস্থাও অপ্রতুল। কার্যালয়টিতে শৌচাগারের পর্যন্ত নেই। দোকানঘরটিতে রয়েছে ৩টি বৈদ্যুতিক ফ্যান, ১২ থেকে ১৫টি চেয়ার, ৩টি টেবিল ও ২টি আলমিরা। গ্রাম আদালত পরিচালনার সময় দেখা যায়, বাদী-বিবাদীসহ ১০ জন ভেতরে অবস্থান করছেন। বাইরে অপেক্ষা করছেন ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ। এভাবেই ৩০ বছর ধরে পরিষদের কার্যক্রম চলে আসছে।
একই অবস্থা টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের। একটি টিনশেড ঘরে পরিষদের কার্যক্রম চলছে, যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার বাড়ির সামনে নির্মাণ করে দিয়েছেন। ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই, বসার জায়গাও সংকট। কোনোভাবে গাদাগাদি করে চলছে দাপ্তরিক কাজ। আর এই ঘরটির জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এভাবেই চলছে তাদের কার্যক্রম।
একটি টিনশেড ঘরে চলছে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, যার ভাড়া প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা। ছবি: আমার দেশদালাল বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পরিষদের কার্যালয় বলতে বাজারের ভেতরে ছোট্ট একটি দোকানঘর, যেখানে মানুষের দাঁড়ানোর জায়গাও ঠিকমতো হয় না। সেবা নিতে রোদ-বৃষ্টিতে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। শৌচাগারে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন হলে আশপাশের বাসাবাড়ি খুঁজতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। দ্রুত আমরা এর সমাধান চাই।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বহুবার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। চার হাজার টাকায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে পরিষদ কার্যালয় চালাচ্ছি। গ্রাম আদালত চলাকালে অধিকাংশ মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টির নিজস্ব ভবন নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো বরাদ্দ মেলেনি। নিজস্ব কার্যালয় না থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো হলো লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, চর রুহিতা, বাঙ্গাখাঁ, শাকচর, টুমচর, চর রমণী মোহন; কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, সাহেবের হাট, চর লরেঞ্চ, পাটোরীর হাট, হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ; রামগতি উপজেলার চর আলগী, চর আবদুল্লাহ, চর বাদাম, বড়খেড়ী এবং রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন।
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়গুলোতে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা কোনো রকমে ছোট কক্ষ নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে জন্ম ও মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেবাগ্রহীতাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাছের বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর চর রমণী মোহন ইউনিয়নে কাজ করেছি। সেখানে কোনো ভবন না থাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে অফিস করতে হতো। এখন আবার টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে এসেছি, সেখানেও কোনো ভবন নেই। চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে টিনসেট ঘরে অফিস করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যার ফলে সরকার ভবন বরাদ্দ দিতে পারছে না। স্থানীয়ভাবে এসব সমস্যার সমাধান হলে দ্রুতই ভবন বরাদ্দ পাবে পরিষদগুলো।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই আমরা রিপোর্ট পাঠাব। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করে না। এটি পরিষদ বা স্থানীয়দের দিতে হয়। জমি পাওয়া গেলে সরকারের প্রকল্পের অধীনে ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
সরেজমিনে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ওপর একটি দোকানঘরে চলছে পরিষদের কার্যক্রম। অস্থায়ী কার্যালয়টিতে পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই, নথিপত্র রাখার নিরাপদ ব্যবস্থাও অপ্রতুল। কার্যালয়টিতে শৌচাগারের পর্যন্ত নেই। দোকানঘরটিতে রয়েছে ৩টি বৈদ্যুতিক ফ্যান, ১২ থেকে ১৫টি চেয়ার, ৩টি টেবিল ও ২টি আলমিরা। গ্রাম আদালত পরিচালনার সময় দেখা যায়, বাদী-বিবাদীসহ ১০ জন ভেতরে অবস্থান করছেন। বাইরে অপেক্ষা করছেন ২০ থেকে ২৫ জন মানুষ। এভাবেই ৩০ বছর ধরে পরিষদের কার্যক্রম চলে আসছে।
একই অবস্থা টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের। একটি টিনশেড ঘরে পরিষদের কার্যক্রম চলছে, যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার বাড়ির সামনে নির্মাণ করে দিয়েছেন। ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নেই, বসার জায়গাও সংকট। কোনোভাবে গাদাগাদি করে চলছে দাপ্তরিক কাজ। আর এই ঘরটির জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এভাবেই চলছে তাদের কার্যক্রম।
একটি টিনশেড ঘরে চলছে টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম, যার ভাড়া প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা। ছবি: আমার দেশদালাল বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পরিষদের কার্যালয় বলতে বাজারের ভেতরে ছোট্ট একটি দোকানঘর, যেখানে মানুষের দাঁড়ানোর জায়গাও ঠিকমতো হয় না। সেবা নিতে রোদ-বৃষ্টিতে বাইরে অপেক্ষা করতে হয়। শৌচাগারে যাওয়ার জরুরি প্রয়োজন হলে আশপাশের বাসাবাড়ি খুঁজতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। দ্রুত আমরা এর সমাধান চাই।
দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বহুবার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। চার হাজার টাকায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে পরিষদ কার্যালয় চালাচ্ছি। গ্রাম আদালত চলাকালে অধিকাংশ মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯টির নিজস্ব ভবন নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো বরাদ্দ মেলেনি। নিজস্ব কার্যালয় না থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো হলো লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার হাজিরপাড়া, দক্ষিণ হামছাদী, দালাল বাজার, চর রুহিতা, বাঙ্গাখাঁ, শাকচর, টুমচর, চর রমণী মোহন; কমলনগর উপজেলার চর কালকিনি, সাহেবের হাট, চর লরেঞ্চ, পাটোরীর হাট, হাজিরহাট, তোরাবগঞ্জ; রামগতি উপজেলার চর আলগী, চর আবদুল্লাহ, চর বাদাম, বড়খেড়ী এবং রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়ন।
ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়গুলোতে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা কোনো রকমে ছোট কক্ষ নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে জন্ম ও মৃত্যু সনদ, নাগরিকত্ব সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেবাগ্রহীতাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
টুমচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল বাছের বলেন, দীর্ঘ ৮ বছর চর রমণী মোহন ইউনিয়নে কাজ করেছি। সেখানে কোনো ভবন না থাকায় চেয়ারম্যানের বাড়িতে অফিস করতে হতো। এখন আবার টুমচর ইউনিয়ন পরিষদে এসেছি, সেখানেও কোনো ভবন নেই। চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে টিনসেট ঘরে অফিস করছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। যার ফলে সরকার ভবন বরাদ্দ দিতে পারছে না। স্থানীয়ভাবে এসব সমস্যার সমাধান হলে দ্রুতই ভবন বরাদ্দ পাবে পরিষদগুলো।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের ভবনের জন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই আমরা রিপোর্ট পাঠাব। ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করে না। এটি পরিষদ বা স্থানীয়দের দিতে হয়। জমি পাওয়া গেলে সরকারের প্রকল্পের অধীনে ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হবে।