রাহাদ সুমন বিশেষ প্রতিনিধি :
নদীঘেরা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা এখন জাটকা নিধনের হটস্পটে পরিনত হয়েছে। সরকারের নির্দেশ শতভাগ সফল করতে জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে অভিযানকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মানববন্ধন করেছেন ওইসব অসাধু জেলেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাটকা নিধনের সাথে জড়িত অসাধু জেলেদের সাথে উপজেলা মৎস্য অফিসের কতিপয় ব্যক্তির যোগসাজস রয়েছে বলে বিস্তার অভিযোগ রয়েছে। যেকারণে নদীঘেরা বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা জাটকা নিধনের হটস্পটে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান জাটকা জব্দ করেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারি মোহাম্মদ জাহিদ হাসান। ওই অভিযানে প্রায় ৪০০ কেজি জাটকা ও দুইটি ট্রলার জব্দসহ দুইজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. রিয়াজুর রহমান। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত জাটকা বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানাসহ দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই অভিযানের ফলে নিজ দপ্তরের কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজসে রবিবার দুপুরে অভিযানকারী কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে অসাধু জেলেরা।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সদরের বাসিন্দা মো. খোকন বলেন, জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় যারা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করিয়েছেন বা করেছেন তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মো. ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী জাহিদ হাসান সর্বদা সরকারের নির্দেশ পালন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এজন্য তার অফিসের কতিপয় লোকই এখন তার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাহিদ হাসানকে মেহেন্দিগঞ্জ থেকে সরানো হলে সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে ওইসব অসাধু ব্যক্তিরা লাভবান হবেন। তাই পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।