রাহাদ সুমন,বরিশাল:
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন শেষে এবার মাঠের রাজনীতিতে আলোচনায় সংরক্ষিত নারী আসন। বিএনপি সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে কাদের মূল্যায়ন করবে তা নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই রাজনীতির মাঠে। তবে হিসেব বলছে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে যেহেতু ১৮টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত মহিলা এমপি পাবে সরকারি দল। বরিশালের সেই ৩টি আসন পেতেই এখন মাঠে বিএনপির নেত্রীরা।
দলের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, যারা বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাদের এগিয়ে রাখা হবে। এবার সংরক্ষিত নারী আসন পেতে মাঠে নেমেছেন প্রায় ২ ডজনের বেশি নেত্রী। সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দৌঁড়ঝাপে এগিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন।
এছাড়া আরও আছেন বরিশাল জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফাতেমা রহমান, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি এবং সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর কন্যা ড্যাব নেত্রী ডা. জাহানারা লাইজু। মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন বলেন, আমি ৯ বার জেল খেটেছি। ৫৫টি মামলা ছিল। সাড়ে ৪ বছর আমি জেলে ছিলাম। বরিশাল কেন সারা বাংলাদেশের ভিতর আমার মতো কোন মেয়ে রাজপথে এভাবে আন্দোলন করেনি। ত্যাগের যদি মূল্যায়ন করা হয় সেক্ষেত্রে আমি শতভাগ আশাবাদী। আর আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান ত্যাগিদের পাশে থাকবেন, তাদের মূল্যায়ন করবেন এটা আমার বিশ্বাস।
মহানগর মহিলা দলের সভাপতি ফারহানা আলম তিথি বলেন, দলের দুর্দিনে সারাক্ষন মাঠে ছিলাম। বিএনপির মিছিল মিটিংএ যোগদানের কারণে কলেজের চাকরীতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। সর্বশেষ বরিশাল সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষে দিনরাত খেটে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি। আশা করি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন আবশ্যই পাবো।
ঝালকাঠী জেলা থেকে প্রার্থী হিসাবে আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী। তিনি বলেন- আমি দলের সামান্য একজন কর্মী। দল আমাকে যেখানে কাজে লাগাবে সেখানে আমি কাজ করবো। আমাকে কোথায় রাখলে ভালো হবে সেটা দল সিদ্ধান্ত নিবে। এছাড়া আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান যারা দলের জন্য কাজ করছে তাদের মূল্যায়ন করবেন বলে বিশ্বাস করি। ভোলা জেলা থেকে যারা মনোনয়ন চাইছেন তারা হলেন- সংসদ-সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম, জেলা মহিলা দল নেত্রী সাজেদা বেগম, বোরহানউদ্দিন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বনি এবং আইনজীবি নূরজাহান বেগম বিউটি।
সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমের বোন খালেদা খানম বলেন, দলের জন্য অনেক শ্রম ও ত্যাগ করেছি। আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম। আশা করি দলের জন্য যে কাজ করেছি দল সেটার মূল্যায়ন করবে।
বরগুনা জেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি হওয়ার দৌঁড়ে আছেন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক নূর শাহানা হক, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের স্ব-নির্ভরবিষয়ক সহ সম্পাদক আসমা আজিজ, বিএনপি নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট রঞ্জুয়ারা শিপু, অ্যাডভোকেট মেহবুবা আক্তার জুঁই, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী শারমিন সুলতানা আসমা, বিএনপি নেত্রী নাজমুন নাহার পাপড়ি, অ্যাডভোকেট মারজিয়া হিরা ও মীরা খান।
কেন্দ্রীয় মহিলা দলের স্ব-নির্ভরবিষয়ক সহ সম্পাদক আসমা আজিজ বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। দলের সব কর্মসূচিতে আমার উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। আমি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্ব অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেছি। সংসদ নির্বাচনে আমি বরগুনা-১ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলাম। দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমি অত্যন্ত সরব ভূমিকা পালন করি। এ
লাকার সাথে রয়েছে আমার নিবিড় যোগাযোগ। এছাড়া ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ যোদ্ধা ছিলাম, একাধিকবার পেটুয়া বাহিনীর হামলা এবং মিথ্যা বিস্ফোরক মামলার আসামি হয়েছি এবং জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছি তারপরেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি । দলের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা ডেডিকেশন ও এডুকেশন দেখে যেন মূল্যায়ন করে।
পিরোজপুর জেলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রহিমা আক্তার হাসি এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি সুলতানা জেসমিন জুঁই সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে চান।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান বলেন-আমি ৭টা মামলার আসামী ছিলাম। যারমধ্যে একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে ৪ মাস জেল খেটেছি। এছাড়া সাড়ে ৩ মাস বিস্ফোরক মামলায় জেলে ছিলাম। আশা করি আমার ত্যাগের মূল্যায়ন দল করবে।
পটুয়াখালী থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে চান সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের স্ত্রী সালমা আলম লিলি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা বেগম সীমা, সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি লায়লা ইয়াসমিন এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য সাজিয়া মাহমুদ লিনা।
পটুয়াখালী জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রুমা বলেন, দল করতে গিয়ে ৩ টি মামলায় ২২ দিন জেলে ছিলাম। সকল আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রভাবে ছিলাম। ত্যাগের যদি মূল্যায়ন করা হয় সেক্ষেত্রে আমি শতভাগ আশাবাদী।
এর বাইরেও ৬ জেলা মিলিয়ে আরও অন্তত ১৫ জন চাইছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে। দলের তৃনমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, এমপি হওয়ার দৌঁড়ে যেসব নারী নেত্রীরা দলের দুর্দিনে মাঠে থেকেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হোক। মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে কোনো নেত্রী নিজেদের জীবন বাজি রেখে দলের জন্য মাঠে নামবেন না।