নেতানিয়াহুর ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে পারে ইরান

আপলোড সময় : ১২-০৪-২০২৬ ০১:১২:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৪-২০২৬ ০১:১২:২১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানি সভ্যতাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিহ্ন করার হুমকির মধ্যেই ইসরাইলিরা গত মঙ্গলবার রাতে ঘুমাতে যায়। কিন্তু মাঝরাতে উঠে তারা খবর পায়, হুমকি দেওয়া ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরই ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো ১০ দফা প্রস্তাবের প্রচার করে। ইরানের মতে, এ ১০ দফার ভিত্তিতেই যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মতি দিয়েছে।

এ দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে, উভয় পক্ষের মধ্যে বৈরিতার সম্পূর্ণ অবসান করা, তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, ইরানের মিত্রদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা প্রতিটি নৌযান থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করা।

যদি এসব দফার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি হয়, তবে এতেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হতে পারে।

গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু অনেকটাই একাকী অবস্থাতেই ট্রাম্পকে ইরান আগ্রাসনের সঙ্গে জড়ান। এখন যদি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কোনো চুক্তি হয়, তবে তা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভিত্তিতেই আঘাত করবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ১০ দফা মেনে নেয়, তাহলে আগের চেয়ে ইরান আরো শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হবে। যে পরিকল্পনা থেকে নেতানিয়াহু ২৮ ফেব্রুয়ারি আগ্রাসন শুরু করেছিলেন, তার সঙ্গে এ ১০ দফা সাংঘর্ষিক।

ইরানে আগ্রাসনের শুরুতে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর পতন ঘটানো। তবে আগ্রাসনের মুখে যখন ইরান শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখন যুদ্ধের লক্ষ্য থেকে ক্রমেই দূরে সরে যেতে থাকেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।

তবে ইরানে ক্ষমতাসীনদের পতন না হলেও নেতানিয়াহু অন্তত তেহরানকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়েছেন, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বড় কোনো শক্তি হয়ে না ওঠে। নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে; কিন্তু তাও এখনো বাস্তব হয়নি।

ইরানের ক্ষমতাসীনরাই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করছে। দেশটি তার ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং আবারও পরমাণু প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারে। বিশ্বঅর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী আঞ্চলিক পরাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। নেতানিয়াহুর জন্য এ পরিস্থিতি হবে সবচেয়ে বিপর্যয়কর।

৩০ বছরের বেশি সময় ধরে নেতানিয়াহু প্রচার করে আসছেন, ইসরাইল ও পশ্চিমা আধিপত্যের জন্য ইরান এক নম্বর শত্রু। তার দেশের জন্য ও বিশ্বের জন্য ইরান যে কত বড় বিপদ, তা-ই জোর গলায় প্রচার করে আসছিলেন তিনি।

কিন্তু আরাধ্য লক্ষ্য অনুযায়ী নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়ে ইরানে আগ্রাসন চালাতে সমর্থ হলেও এর ফলাফলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিধর দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রকৃতপক্ষেই কঠিন পরিস্থিতি। এছাড়া আগ্রাসনের জেরে দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক উন্নয়নের ‘ইবরাহিমি চুক্তি’ প্রকল্প (আবরাহাম অ্যাকোর্ড) হুমকির মুখে পড়ে গেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি ইস্যুর সমাধান ছাড়াই আরব দেশগুলোর, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি আগ্রাসনে এই দেশগুলোও ভুক্তভোগী হয়েছে। যদি হরমুজের ওপর তেহরান নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, তবে এ দেশগুলো তাদের তেল-গ্যাস রপ্তানির জন্য ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। আপাত বন্ধ হওয়া সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী তাদের সহায়তা করতে পারেনি। এর ফলে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর জেরে ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]