শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরে নিয়ে শ্রমিককে দুই হাত বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

আপলোড সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৬:১২:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৪-২০২৬ ০৬:১২:৪৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শ্বশুরবাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এক ইটভাটার শ্রমিককে দুই হাত বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মৌলভিরহাট এলাকার স্লুইসগেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী কালু কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত ইসমাইলের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তিনি ইটভাটায় শ্রমিক সরবরাহ করেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভাইরাল ভিডিওটি দেখে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ইটভাটা মাঝির বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, কালু নামে ওই শ্রমিকের দুইহাত দোকানঘরের আঁড়ার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে বাঁধা হয়। এরপর ইসমাইল মাঝি একটি লাঠি হাতে ওই শ্রমিককে পেটাচ্ছে। এ সময় শ্রমিককে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেওয়া হয়। পেটানোর মাঝে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ৮০ হাজার টাকায় চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করার জন্য ইসমাইলের সঙ্গে কালু চুক্তিবদ্ধ হয়। তিনি টাকাও নিয়েছেন। সে অনুযায়ী তিনি চট্রগ্রামের ইটভাটার শ্রমিকের কাজ করতো। কিছুদিন আগে কালু অসুস্থ্যতার কারনে বাড়িতে চলে আসে। এরপর তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান নেয়। ঘটনার সময় কালুকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে ইসমাইল লোকজন নিয়ে তাকে ধরে আনে। পরে ঘটনাস্থলে ইসমাইলের অফিসে (দোকানঘর) দুই হাত বেঁধে নির্যাতন করে এবং ভয়ভীতি দেখায়। পরে কালুর পরিবর্তে তার ভাইদের দিয়ে কাজ করে দিতে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। কালু অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়াবাড়ি করবে না বলে সাদা কাগজে মুচলেকা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

কালু মিয়া বলেন, ইসমাইল মাঝি আমাকে তার লোকজন দিয়ে ধরে নিয়ে হাত বেঁধে মারধর করে। পরে আমার বাড়িতে খবর দেয় এক লাখ টাকা নিয়ে আসার জন্য। মারধরের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে। মাঝি পালিয়ে গেছে।

ইসমাইল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজের জন্য কালুকে বছরের শুরুতে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সে কাজ করছে না। প্রায়ই নানা অজুহাতে কাজ ফেলে চলে আসে। দুইহাত বেঁধে ঝুলিয়ে রাখলেও বেশি মারধর করা হয়নি। ভয় লাগানোর জন্য সামান্য কয়েকটি বেত্রাঘাত দিই।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]