আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
সরকারি বিধি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় নাগরিকসেবা পরিচালনার অভিযোগে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন খোলা থাকলেও সেখানে নেই দায়িতপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ফলে সরকারি সেবা এখন দপ্তরের বাইরে, সাধারণ মানুষের নাগালেরও বাইরে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, চিলমারী ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুল ইসলাম মণ্ডল নির্ধারিত সরকারি কার্যালয় কড়াইবরিশালে নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন না। সরকারি দপ্তর ফাঁকা রেখে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের থানাহাট ইউনিয়নে অবস্থিত ব্যক্তিগত বাসা থেকেই জন্মনিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে চিলমারী ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে নদী পার হয়ে সেখানে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর মতে, এটি স্পষ্টভাবে সরকারি দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবায় সরকার নির্ধারিত ফি উপেক্ষা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা জানান, সরকারি ফি যেখানে ৫০ টাকা, সেখানে তাদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে, যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
ঢুষমারা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫০ টাকার সেবা নিতে আমাকে ১৫০ টাকা দিতে হয়েছে। না দিলে কাজ হবে না– সাফ জানিয়ে দিয়েছে। বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছি।
দিনমজুর মোঃ আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা দিন এনে দিন খাই। জন্মনিবন্ধনের জন্য নদী পার হয়ে থানাহাট যেতে হয়। এতে একদিনের কামলা নষ্ট হয়। তার ওপর আবার অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এই ক্ষতির দায় কে নেবে?
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন বৃদ্ধ, নারী ও শিক্ষার্থীরা। নৌকা পারাপারের ঝুঁকি, সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণে নাগরিক সেবা তাদের জন্য প্রায় অধরাই থেকে যাচ্ছে। একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে কথা বলতে চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে থানাহাটে বসে কাজ করি। মাঝে মাঝে ইউনিয়ন পরিষদেও যাই। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘কেউ খুশি হয়ে বেশি দিলে নিই, না দিলে নেই না।’
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অবশ্যই নির্ধারিত কার্যালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্থানে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে শান্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।