স্টাফ রিপোর্টারঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গোদামঘরের তালা ভেঙে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।
গত ৫ এপ্রিল রাত ৯ পর থেকে পরের দিন ভোর ৬টার মধ্যে এই লুটপাটের ঘটনাটি ঘটে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ফারহানা ইয়াসমিন থানায় লিখত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীর তার বড় ভাই মনিরুজ্জামান ভূইয়া ওরফে শামীম (৫০) ও ভাইয়ের স্ত্রী পারুল আক্তার (৪৬) কে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফারহানা ইয়াসমিন দাবি করেন, তিনি ২০২১ সালে খারিজ খতিয়ান নং-১০৫০ অনুযায়ী টেঙ্গুরী এলাকায় প্রায় ৪৩ শতাংশ জমি হেবা সূত্রে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে তিনি একটি গোদামঘর নির্মাণ করে রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সংরক্ষণ করতেন। গত ৫ এপ্রিল রাত ৯টা থেকে ৬ এপ্রিল সকাল ৬টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা তার গোদামঘরের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা মালামাল নিয়ে যায়। পরে গোদামের গেটে নতুন তালা লাগিয়ে দেয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন তিনি।
ফারহানা ইয়াসমিন আরও জানান, অভিযুক্তরা তার নিকটাত্মীয় ভাই ও ভাবী এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার দিন সকালে গোদামের তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাকে জানায় কর্মচারী। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা মালামাল নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে।
এছাড়া ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে ও তার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয় অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান ভূইয়া ওরফে শামীমের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত হচ্ছে, সত্যতা পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।