মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু
নওগাঁ প্রতিবেদক
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন ও ইটভাটায় বিক্রির এক নজিরবিহীন উৎসব শুরু হয়েছে। রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকের দাপটে যেমন নষ্ট হচ্ছে পাকা রাস্তা, তেমনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
গত ৫ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার বদলগাছী সদর ইউনিয়নের কামারবাড়ী এলাকায় এই অবৈধ মাটি কাটার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন আলোকিত দৈনিক-এর নিজস্ব প্রতিনিধি মো. লিটন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।
সরেজমিনে এবং স্থানীয়দের অভিযোগে জানা গেছে, বদলগাছী সদর ইউনিয়নের পিঁড়িরা ও সোয়াসা এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় উচ্চমূল্যে বিক্রি করে আসছেন। ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে মাটি পরিবহনের ফলে এলাকার পাকা সড়কগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা উচ্চ শব্দে ট্রাক চলাচলের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে এবং জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাংবাদিক লিটন হোসেন ও সাদেকুল ইসলাম (উজ্জ্বল) অবৈধ মাটি কাটার চিত্র ভিডিও ধারণ করতে গেলে অভিযুক্ত মো. ফরহাদ হোসেন, মো. রুবেল হোসেন ও মো. সুমন হোসেনের নেতৃত্বে একদল সংঘবদ্ধ ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ সময় সাংবাদিকদের কাছে থাকা পেশাগত কাজের সরঞ্জাম ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় গ্রামবাসী এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ফোনটি ফেরত দিলেও তারা সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. লিটন হোসেন গত ৭ এপ্রিল বদলগাছী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং তার ও তার সহকর্মীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাটি ব্যবসায়ীদের দাপটে তারা অসহায়। রাতে তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারেন না, আর প্রতিবাদ করলে উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হয়। প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এলাকার পরিবেশ ও অবকাঠামো চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি পলাশ উদ্দিনের মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে, তিনি তার মুঠোফোন টি রিসিভ করেন নাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বদলগাছী মডেল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক আবু রায়হান লিটন বলেন, সাংবাদিকরা বি়ভিন্ন জায়গায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে এটা স্বাভাবিক বিষয় কিন্তু তথ্য সংগ্রহকালে যদি সাংবাদিকরা বাঁধার সম্মুখীন হয় আর যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেটিকে মোকাবেলা করবো বৃহৎ আন্দোলনে যাবো সুতরাং আমি প্রশাসনকে অনুরোধ দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।
বদলগাছী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।