​বরিশালের বাকেরগঞ্জে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক: অভিযান আছে, নেই প্রতিকার!

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৫৬:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৮:৫৬:০২ অপরাহ্ন
‎
‎মোঃ মিনহাজুল ইসলাম সুজন বাকেরগঞ্জ ( বরিশাল) প্রতিনিধি :
‎
‎বরিশালজেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়  ১৪ টি ইউনিয়ন সহ পৌরশহরে  মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। 
অভিযোগ উঠেছে—হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও ‘সফলতা’র খবর প্রকাশ পেলেও বাস্তবে কমছে না মাদকের সরবরাহ কিংবা ব্যবহার। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই অভিযানের কার্যকারিতা কতটুকু?
‎
‎নগরীর বিভিন্ন এলাকা—বাকেরগঞ্জ পৌরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ড সহ বোয়ালিয়া বাজার ,  কালীগঞ্জবাজার , পাদ্রীশিবপুর , সদর রোড, ভিআইপি কলোনি , , লঞ্চঘাট বন্দর , চর আউলিয়াপুর, চর- ভরপাশা, কলশকাঠী, কাঠের পুল সহ  বাকেরগঞ্জ থানার  আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে পাদ্রীশিবপুর খ্রীস্টান পল্লিতে বিভিন্ন স্পষ্টে বিক্রি হয় মাধক, বসে বাংলা মদের আসর 
স্থানীয়রা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জমে ওঠে মাদক বাণিজ্য। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎
‎মাদকের সহজলভ্যতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ ও উঠতি বয়সী স্কুল পড়ুয়া কিশোররা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানরা খুব সহজেই মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
‎
‎এদিকে অভিযান আছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নেই
‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার দাবি করা হলেও স্থানীয়দের মতে,  প্রশাসনের  সারা বছর জুড়ে বড় বড় সফল অভিযান থাকছে। 
‎একই সাথে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ এর মাদক আটক। 
‎এদিকে  মাদক বিরোধী অভিযানে কিছু খুচরা বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। 
‎ফলে কিছুদিন পরই আবার একই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে।
‎
‎বাকেরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি তন্ময় হালদার এবং 
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( অফিসার ইনচার্জ)  মোঃ কে এম সোহেল রানা  জানায় মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, সাথে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। একই সাথে প্রত্যেকটি পরিবারের অভিভাবকের দরকার সন্তানদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি প্রদান করা, এছাড়াও  মাদক সমস্যার পেছনে রয়েছে বেকারত্ব, হতাশা ও সামাজিক অবক্ষয়। তিনি আরো বলছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়
‎পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হবে না।

‎এদিকে বাকেরগঞ্জ থানার  থানার চৌকস অফিসার তোফাজ্জল হোসেনের  মুঠোফোনে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান 
‎মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‎
‎বাকেরগঞ্জের  সচেতন নাগরিকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান। তাদের দাবি—
‎মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি
‎নিয়মিত নজরদারি ও গোপন তদন্ত জোরদার সহ 

‎তরুণদের জন্য বিকল্প বিনোদন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

‎বাকেরগঞ্জে  মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকলেও বাস্তবতা বলছে—এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে মাদক পরিস্থিতি। কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]