যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল যেসব দেশ

আপলোড সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:১৬:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৪-২০২৬ ০৬:১৬:১২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে ওমান, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্যসহ স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। দেশগুলো হলো:

চীন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন নিজস্ব জায়গা থেকে প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

জাপান
জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা সাংবাদিকদের বলেন, টোকিও এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে একটি 'ইতিবাচক পদক্ষেপ' হিসেবে গ্রহণ করছে। জাপান এখন একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ফ্রান্স
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'এটি একটি খুব ভালো বিষয়।'

তবে মাখোঁ একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইভন মেওয়েংকাং এক বিবৃতিতে সংঘাতের সাথে জড়িত সব পক্ষকে সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্য
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখতে এবং একে স্থায়ী রূপ দিতে যুক্তরাজ্য 'সম্ভাব্য সবকিছু' করবে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'গত রাতে হওয়া এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই। এটি এই অঞ্চল এবং পুরো বিশ্বের জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে।'

স্টারমার আরও যোগ করেন, 'আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে এই যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই সমঝোতাকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করা।'

ওমান
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে।

বিবৃতিতে ওমান এই সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান এবং যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো সকল পক্ষের প্রচেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

ওমান সরকার জোর দিয়ে বলেছে, এই সংকটকে সমূলে উৎপাটন করতে এবং ওই অঞ্চলে যুদ্ধ ও শত্রুতার স্থায়ী অবসান ঘটাতে এখন কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তারা মনে করে, আলোচনার মাধ্যমেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

ইউক্রেন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের কাছ থেকে একই ধরণের 'দৃঢ় পদক্ষেপ' দাবি করেন।

সিবিহা লিখেছেন, 'আমেরিকার দৃঢ় পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত আসলেও কার্যকর হয়। আমরা বিশ্বাস করি, মস্কোকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করতে এবং ইউক্রেনে তাদের যুদ্ধ বন্ধ করতে এখন পর্যাপ্ত দৃঢ়তা দেখানোর সময় এসেছে।'

জার্মানি
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, তার সরকার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাচ্ছে।

মের্ৎস এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে মধ্যস্থতা করার জন্য পাকিস্তানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের একটি 'স্থায়ী সমাপ্তি' নিশ্চিত করাই সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অস্ট্রেলিয়া
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এক যৌথ বিবৃতিতে এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, 'ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।'

অস্ট্রেলীয় নেতারা আরও সতর্ক করে বলেন, 'আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব তত ভয়াবহ হবে এবং মানুষের প্রাণহানিও বাড়বে।'

এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করে তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন আলবানিজ ও ওং। তারা আশা প্রকাশ করেন যে এই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকবে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধান আসবে।

মিশর
মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি একটি 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ' তৈরি করেছে। আলোচনা, কূটনীতি এবং গঠনমূলক সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে এই সুযোগটিকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।

ইরাক
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও বলেছে, একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান—উভয় পক্ষকেই এই চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা সংকট নিয়ন্ত্রণে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানায় এবং সংলাপ ও কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়। একই সাথে তারা যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে চলা এবং যেকোনো ধরণের উত্তেজনা থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছে।

মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই যুদ্ধবিরতিকে একটি 'উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি' হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এটি একটি 'গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ'।

মন্ত্রণালয় সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো সততার সাথে মেনে চলার অনুরোধ করেছে যাতে পুনরায় সংঘাত শুরু না হয়। একই সাথে উস্কানিমূলক বা একতরফা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কিংবা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স জানিয়েছেন, তার সরকার এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাচ্ছে, যদিও অনেক বিষয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, 'এটি একটি উৎসাহব্যঞ্জক খবর হলেও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক কাজ করতে হবে।'

তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ সময় পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের মতো দেশগুলোর সফল মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন পিটার্স।





 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]