ছেলের জন্য রক্ত নিয়ে এলে বলে লাগবে না, সে মারা গেছে

আপলোড সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ০৬:৩২:০৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৪-২০২৬ ০৬:৩২:০৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ রাকিব হোসেনের মা হাসি আক্তার।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আমি আফতাবনগর পাওয়ার গ্রীডে অফিস সহায়ক পদে চাকুরী করি। আমার একমাত্র ছেলে রাকিবও আমার সঙ্গে একই অফিসে ক্লিনার পদে চাকরি করতো। আমার ছেলে শুরু থেকেই জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতো। ১৯ জুলাই সকালে সে বাসা থেকে না বলে বেরিয়ে যায়।

পরে আমার মেয়ের জামাই আমাকে এসে বলে রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এরপর আমি ও আমার মেয়ের জামাই রিকশা নিয়ে দ্রুত আফতাবনগর নাগরিক হাসপাতালে যাই। আমি জানতে পারি, রাকিব আফতাব নগর গেটের সামনে রামপুরা ব্রীজের ঢালে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সেখানে সে তার বন্ধুদের নিয়ে আন্দোলন করছিলো। আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পাই, রাকিব তার পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

নাগরিক হাসপাতাল থেকে বলা হয় রাকিবকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। তাকে একটি এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রথমে ইমার্জেন্সিতে পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সাক্ষী এ পর্যায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

জবানবন্দিতে শহীদ রাকিবের মা আরো বলেন, আমি রাকিবকে দেখতে আইসিউতে যেতে চাইলে আমাকে বাধা দেওয়া হয়। একসময় আমি বাধা উপেক্ষা করে আইসিউতে ঢুকে রাকিবকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। আমি তার কপালে ও গালে চুমো দিয়ে বলি তোমার কিছু হবে না বাবা। আমার এক ভাই রাকিবের জন্য তিন ব্যাগ রক্ত নিয়ে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলে রক্ত আর লাগবে না, রাকিব মারা গেছেন। সাক্ষী এ পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আমার ছেলের হত্যার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কর্নেল রেদোয়ান, ওসি মশিউর, এডিসি রাশেদ, মেজর রাফাতসহ আরো যারা জড়িত তাদের দায়ী করছি। তারা শুধুমাত্র আমার ছেলেকেই হত্যা করে নাই, আরো অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]