​কুড়িগ্রামে প্রশ্নফাঁসের অভিযুক্তদের পুনর্বহাল চেষ্টায় উত্তেজনা, মানববন্ধনে অপসারণের দাবি

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৬:২৬:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৬:২৬:১৪ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি ঃ 
মোঃ জাকারিয়া হোসেন 


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় নেহাল উদ্দিন বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২২ সালের এসএসসি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের পুনর্বহাল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।


জানা যায়, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ২য়পত্রের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তৎকালীন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আদম মালিক চৌধুরী বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় দি পাবলিক এক্সামিনেশন (অফেন্স) অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর ৪/৪৩ ধারায় মামলা (নং-১৯) করেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, মোঃ হামিদুর রহমান, মোঃ সোহেল আল মামুন, খণ্ডকালীন শিক্ষক মোঃ জোবাইর হোসেন, অফিস সহকারী মোঃ আবু হানিফ এবং নিরাপত্তা কর্মী মোঃ সুজন। অভিযোগ ছিল, তারা দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতেন। ২০২২ সালের পরীক্ষার সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৪ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম দায়রা জজ আদালতে আপিল (মামলা নং-২৮/২০২৬) করে।

অভিযোগ রয়েছে, আপিলের বিষয়টি গোপন রেখে অভিযুক্তরা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে পুনর্বহালের আদেশ সংগ্রহ করে গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের চেষ্টা করেন। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের সিলমোহর তৈরি করে হাজিরা খাতা ও নোটিশ বই প্রস্তুত করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান পলাশকে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।


ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এতে অস্বীকৃতি জানালে বরখাস্তকৃতরা পেশিশক্তি প্রয়োগের হুমকি দেন। এতে অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা নিজেদের মধ্যে উপস্থিতি দেখিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগদানের ঘোষণা দেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে আবারও প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা হতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ভূরুঙ্গামারী ইসলামী ব্যাংকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, যা শিক্ষা পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে।

তারা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের স্থায়ীভাবে অপসারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “শিক্ষাঙ্গনকে কলুষমুক্ত রাখতে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকতে হবে।”

এছাড়াও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী সালাম, ইফতেখারুল ইসলাম শ্যামা, গোলাম ইয়াছিন, যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম শান্তসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা খোরশেদ আলম।

প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ, আদালতের খালাস, চলমান আপিল এবং পুনর্বহাল চেষ্টাকে ঘিরে নেহাল উদ্দিন বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া শিক্ষা পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]