তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৫:২৫:৫৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৫:২৫:৫৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর তিন জনের ডিএনএ প্রোফাইল পরীক্ষার (ক্রস ম্যাচ) অনুমতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করার পর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতি দেন ।

আবেদনে সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক জাহাঙ্গীর আলমের ডিএনএ প্রোফাইল তনুর পোশাকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক আবেদনটি গ্রহণ করে অনুমতি দিয়েছে বলে জানান পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম ।

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।

কুমিল্লা আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মামুনুর রশিদ জানান, তনু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে তদন্ত কর্মকর্তাকে আজ হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হয়ে এই আবেদন করেছিলেন।

এদিকে আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন তনুর বাবা ইয়ার আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য বার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে সাক্ষ্য দিয়েছি। কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। আজ তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে এসেছেন। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই

প্রথমে ২০১৬ সালের ২১ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলামকে। পরে দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত দেওয়া হয় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনজুর আলমকে। পরবর্তীতে তৃতীয়বার ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সিআইডির কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম তদন্ত করেন। চতুর্থবার ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে সিআইডির নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জালাল উদ্দিন আহম্মদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জালাল উদ্দিন আহম্মদ চার বছরের অধিকসময় এই মামলার কিনারা করতে পারেননি। পঞ্চমবার ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) ঢাকার সদর দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়। তখন তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মজিবুর রহমান। মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পিবিআই এর পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]