রেজিস্ট্রেশন জটিলতার ৩ মাসেও চালু হয়নি শাবিপ্রবির নতুন বাস

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৫:১৮:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০৫:১৮:১২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রেজিস্ট্রেশন জটিলতার কারণে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ক্রয়কৃত নতুন মিনিবাস। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে ৩৯আসন বিশিষ্ট বাসটি ক্রয় করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এমন একটি মিনিবাসের ক্রয়মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা।

সরে জমিনে দেখা যায়, এত উচ্চমূল্যের বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি গ্যারেজের বাইরে শহীদ রুদ্র সেন লেক এর পাশে আরেকটি নষ্ট পিকআপ ব্যানের সাথে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। এতে করে বাসটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে মূল্যবান এই যানবাহনটি ব্যবহার না করেই অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

বাসটি ব্যবহার না করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরিফুজ্জামান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেনার তিন মাসেরও বেশি সময় পার হলেও প্রশাসনের অদক্ষতা ও উদাসীনতার কারণে এখনো বাসটি চালু হয়নি, ফলে প্রতিদিন পরিবহন সংকটে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে; অথচ সরকারি টাকায় কেনা সম্পদ এভাবে ফেলে রেখে নষ্ট করা শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, এটি সরাসরি জনস্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করে ভবিষ্যতে বাসটিকে অচল দেখিয়ে নতুন বাজেটের সুযোগ তৈরির মতো অনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে, যা হলে তা হবে এক প্রকার দুর্নীতির শামিল। তাই তিনি অবিলম্বে বাসটি চালু করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক আ ফ ম জাকারিয়া বলেন, “যে প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি কেনা হয়েছে, সেই প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড রেজিস্ট্রেশনের জন্য যে কাগজপত্র দিয়েছিল, তাতে ভুল ছিল। তারা ৩০ মার্চের দিকে সংশোধিত কাগজপত্র দিয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা আবার রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছি।”

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হতে কত সময় লাগতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশন করতে কিছু সময় নেয়। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই কখনও ১০ দিন, কখনও ১৫ দিন বা তারও বেশি সময় লাগে।”

বিআরটিএ কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনের কার্যদিবস ১ দিন নির্ধারিত আছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা নেই। তাছাড়া আমরা তো সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গাড়ি ক্রয় করেছি। আমাদের এখান থেকে একটি ফাইল প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে যায়, এরপর তারা সেটি বিআরটিএতে পাঠায়। ফলে সময় বেশি লাগে আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে।”

বিআরটিএর ওয়েবসাইটে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সেবা পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, মোটরসাইকেল ব্যতীত অন্যান্য মোটরযানের রেজিস্ট্রেশনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দিয়ে মোটরযান পরিদর্শনের পর মোটরযান পরিদর্শকের সুপারিশ সাপেক্ষে সহকারী পরিচালক রেজিস্ট্রেশন প্রদান করেন। এতে সেবার কার্যদিবস উল্লেখ করা হয়েছে ১ দিন।

গাড়িটির কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া একাধিক নম্বরে কল করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]