দিবাযত্ন কেন্দ্রে অনিশ্চয়তা: আতঙ্কে অভিভাবকরা

আপলোড সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০২:১৬:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৪-২০২৬ ০২:১৬:৪৯ অপরাহ্ন

 

নিজস্ব প্রতিবেদন | ৬ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে পরিচালিত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো এখনো আশ্বাসের ভরসায় চললেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। বকেয়া বেতন, ঠিকাদারি বিল পরিশোধে জটিলতা ও প্রকল্পের মেয়াদসংক্রান্ত সমস্যার কারণে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা।

কর্মজীবী মা লাবনী আক্তার প্রতিদিনের মতো সন্তানকে দিবাযত্ন কেন্দ্রে রেখে অফিসে গেলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তার মধ্যে কাজ করছে শঙ্কা—কখন আবার কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা আসে। গত ২৫ মার্চ বেতন বকেয়ার কারণে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কার্যক্রম চালু রাখা হলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মাসের বেতন বকেয়া থাকায় কর্মীরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিল বকেয়া থাকায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোও খাবার সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয়। আংশিক বকেয়া পরিশোধ ও আশ্বাসের ভিত্তিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এই কেন্দ্রগুলো কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিরাপত্তা, খাবার ও প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ায় তারা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সংকটে সেই নিশ্চয়তা ভেঙে পড়ছে।

একাধিক অভিভাবক জানান, কর্মীদের বেতন-ভাতা অনিশ্চিত থাকলে সেবার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে হঠাৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেলে তাদের কর্মজীবনও হুমকির মুখে পড়বে।

দিবাযত্ন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, কয়েক মাস ধরে বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তিন মাসের বেতন পরিশোধ করা হলেও এখনো প্রায় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। অন্যদিকে ঠিকাদারদের পাওনা বিল পরিশোধ না হওয়ায় খাবার সরবরাহও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০টি দিবাযত্ন কেন্দ্রে প্রতিটিতে ৬০টি আসন রয়েছে। ৪ মাস থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাখা হয়। এখানে তিন বেলার খাবার, খেলাধুলা, প্রাক-শিক্ষণসহ সার্বিক যত্ন নিশ্চিত করা হয়।

২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও অর্থ ছাড় ও অনুমোদন জটিলতার কারণে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, আংশিক বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে যে কোনো সময় আবারও সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

 
 
 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]