ওসমানীনগরে ইউএনও প্রত্যাহার ও চেয়ারম্যান পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

আপলোড সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ০৭:২৬:২৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৪-২০২৬ ০৭:২৬:২৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় নির্বাচনি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশাকে প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় বিএনপি ও বিভিন্ন সংগঠন। একইসঙ্গে তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদের পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
 
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালন করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ ওসমানীনগরে বাস্তবায়িত নির্বাচনি সিসি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং বর্তমানে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে একটি রিট মামলা চলমান রয়েছে। এ অবস্থায় গত ২ মার্চ ইউএনও মুনমুন নাহার আশা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করে চিঠি দেন। পরবর্তীতে গত ৩ এপ্রিল (সরকারি ছুটির দিনে) জেলা প্রশাসক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদকে অপসারণ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেন। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রোববার সকালে নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে ইউএনওর প্রত্যাহার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পুনর্বহালের দাবিতে স্লোগান দেন।

এর আগেও নির্বাচনি সিসি (ক্যামেরা) প্রকল্পে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একই অভিযোগে তাজপুর বাজারে উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ইউএনও মুনমুন নাহার আশার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার প্রত্যাহারের দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ জানান, নির্বাচনি সিসি (ক্যামেরা) প্রকল্পে ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তিনি পরিকল্পিত আক্রোশের শিকার হয়েছেন।

এদিকে হাইকোর্টে চলমান রিট মামলার বিষয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদারের কাছে আদালতের কোনো আদেশের কপি আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে আদালত অবমাননার সম্ভাবনা রয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এদিকে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অসদাচরণের অভিযোগও একাধিকবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা অবগত রয়েছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]