পানজুম ধ্বংসের প্রতিবাদে কুলাউড়ায় মানববন্ধন: জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা ও দোষীদের বিচারের দাবি

আপলোড সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০৪:০৯:৫৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৪-২০২৬ ০৪:০৯:৫৯ অপরাহ্ন


এস. এম. জালাল উদ্দীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে এক আদিবাসী দম্পতির প্রায় ১২ শতাধিক পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় খাসিয়া সম্প্রদায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া পৌর শহরে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন, খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (মৌলভীবাজার জেলা শাখা) এবং বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ, রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

কুবরাজ আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রত্যুষ আসাক্রার সভাপতিত্বে এবং আদিবাসী নেত্রী হিরামন তালাং ও মনিকা খংলার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সাবেক অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল, জাসদ নেতা মঈনুল ইসলাম শামীম, কমিউনিস্ট পার্টির মাহবুব করিম মিন্টু, আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য ফ্লোরা বাবলী তালাংসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, পানগাছ খাসিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা। এই গাছ ধ্বংস করা মানে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া। দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কুলাউড়া শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, যার অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপির মূল দাবিঃ
আদিবাসী নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে পাঁচটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন। দাবী সমূহ হলো: পানজুম কাটার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও শাস্তির আওতায় আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, পানচাষীদের জানমাল ও জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আদিবাসীদের ভূমির অধিকার আইনি স্বীকৃতি দেওয়া, পান ও অন্যান্য ফসল চুরি বন্ধে কার্যকর আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা, এছাড়া পুঞ্জিতে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ রোধ এবং আদিবাসী-বাঙালি সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

আতঙ্কে পুঞ্জিবাসীঃ
আদিবাসী নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, কুলাউড়ায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২টি খাসিয়া পুঞ্জিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে বসবাস করছেন। কিন্তু ভূমির অধিকার না থাকায় তারা সবসময় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পুঞ্জিতে পানগাছ কাটা, ফসল চুরি, দখলচেষ্টা ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিভিন্ন পুঞ্জিতে প্রায় ৫ হাজার পানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্যঃ
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ঘটনার পটভূমিঃ
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ গভীর রাতে ইছাছড়া পুঞ্জির অনন্ত ও সরিস লামারাই দম্পতির পানজুমে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে প্রায় ১২ শতাধিক পরিপক্ব পানগাছ কেটে ফেলে। এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই পুঞ্জিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]