রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি :
বরিশালে কোন ক্রমেই থামানো যাচ্ছেনা রাতের আধাঁরে অধিকমূল্যে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় জ্বালানি তেল পাচারের ঘটনা। অথচ ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে গ্রাহকদের বলা হচ্ছে তেল সরবরাহ নেই। যেকারণে অধিকাংশ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় বোরো চাষে পানি সরবরাহ করতে চরম হিমশিম থেকে হচ্ছে ব্লক ম্যানেজারদের।
পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে জ্বালানি তেল মজুদদারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে এ অভিযানের সফলতা এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গৌরনদীর টরকী বন্দর এলাকা থেকে তেল পাচারের সময় টহলরত পুলিশ প্রশাসন হাতেনাতে একটি গাড়ি আটক করলেও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির মধ্যস্থতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করে তেলের গাড়িটি ছেড়ে দিয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ দিবাগত মধ্যরাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কোন এক ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে ব্যারেল ভর্তি করে ভ্যানযোগে টরকী বন্দর হয়ে জ্বালানি তেল পাচার হচ্ছিলো পাশ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার রমজানপুর এলাকায়।
বিষয়টি গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে জানতে পেরে টরকীর বড় ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় কতিপয় যুবক জ্বালানি তেল পাচারের সময় ইঞ্জিনচালিত ভ্যান গাড়িটি জব্দ করেন। এসময় তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার পর স্থানীয়ভাবে রাতে টহলরত পুলিশ সদস্যরা পূনরায় জ্বালানি তেল পাচারের ভ্যান গাড়িটি জব্দ করেন। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যরাও ওইসব যুবকদের মধ্যস্থতায় টাকার বিনিময়ে জ্বালানি তেল বোঝাই ওই ভ্যান গাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে এ ঘটনার সাথে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অসংখ্য ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গৌরনদী উপজেলার খুচরা তেল বিক্রেতাদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমান তেল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
অপরদিকে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ রাখার খবর পেয়ে গত ১ এপ্রিল বিকেলে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন্নাহার তামান্না। এ সময় ওই বাড়ি থেকে ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়িতে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে রেখেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ী হান্নান হাওলাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি তার ঘর থেকে উদ্ধার করা ৫৮০ লিটার ডিজেল জব্দ করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের ভোলার বিসিক শিল্প নগরীর দুটি কারখানায় গত ৩১ মার্চ রাতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কারখানা দুটির মালিককে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও দুটি কারাখানাই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
জরিমানা করা ব্যক্তিরা হলেন, জামাল খানের মালিকানাধীন মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলস ও এনামুল হকের মালিকানাধীন তৃষ্ণা ফ্যাক্টরি। এরমধ্যে খান ফ্লাওয়ার মিল থেকে ৪ হাজার লিটার ও তৃষ্ণা ফ্যাক্টরি থেকে ২ হাজার লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের ব্যবসায়ী কৃষ্ণ বাড়ৈর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারশ' লিটার ডিজেল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.বায়েজীদ সরদার।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের মাহামুদকাঠী বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী বাদশা তালুকদার নান্টুর গোডাউন থেকে ৪ হাজার ১৮লিটার ডিজেল ও কেরোসিন জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ী নান্টু তালুকদারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।