এস. এম. জালাল উদ্দীন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া কয়েক মিনিটের তীব্র ঝড়ে উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার সদর, পৃথিমপাশা, রাউৎগাঁও, ব্রাহ্মণবাজার, টিলাগাঁও ও হাজীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে বহু বসতঘরের টিনের চাল উড়ে যায় এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে।
ঝড়ের তাণ্ডবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রক্ষা পায়নি। পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার এলাকায় প্রধান সড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে একটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি দোকানেও ক্ষতি হয়। এছাড়া মৌলভীবাজার-কুলাউড়া সড়কের লুয়াইউনি চা-বাগান এলাকায় গাছ পড়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে অনেক ঘরের টিনের চাল উড়ে যায় এবং বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাউৎগাঁও ইউনিয়নের পীরের বাজার ও নর্তন, এবং পৃথিমপাশার রবিরবাজার এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আব্দুল বাছিত জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৪০টির বেশি ঘরবাড়ির চালা উড়ে গেছে এবং প্রায় দুই হাজার গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
রাউৎগাঁও ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল মুক্তাদির মনু জানান, ঝড়ে প্রায় ২৫-৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবানীপুর এলাকার সড়কের পাশে বড় গাছ পড়ে সীমানা প্রাচীর, পাকা রাস্তা ও বৈদ্যুতিক লাইনেরও ক্ষতি হয়েছে।
পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সেলিম আহমদ চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নে ৫০টির বেশি ঘরবাড়ি এবং রবিরবাজারের ৫-৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অনেক গাছ সড়কে পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কুলাউড়া বনবিভাগের কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানান, ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে তিনটি টিম কাজ করছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির কাজ চলছে, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এদিকে কুলাউড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।