​গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ইবি শাখা 'বৈছাআ'র মানববন্ধন

আপলোড সময় : ০১-০৪-২০২৬ ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৪-২০২৬ ০৪:২১:০০ অপরাহ্ন

ইবি প্রতিনিধি

গণভোটের গণরায় বাতিলের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসময় শাখা ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত ছাত্র মজলিসসহ বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

শাখা ছাত্র মজলিসের সভাপতি জুনায়েদ আহমেদ বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের পর যদি আমরা শেখ হাসিনার মত বড় শয়তানকে বিতাড়িত করতে পারি তাহলে কেউ নতুন করে শয়তান হয়ে উঠলে চাইলে ও একক আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলে তাকেও প্রতিহত করা হবে। আমরা জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন দেখতে চাই ও ’২৪-এ যারা রক্ত ঝড়িয়েছে তাদের রক্ত বৃথা যেতে দিব না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এই জনরায়কে উপেক্ষা করতে চাচ্ছে তারা অনেকেই ধানক্ষেতের পাশে রাত্রিযাপন করেছে, বিদেশে আত্মগোপনে ছিল ও ফাঁসির কাষ্ঠের আসামী ছিল। সংবিধান মেনে ’২৪-এর আন্দোলন হলে তারা কেউই বিদেশ থেকে এসে নাগরিকত্ব পেত না ও ফাঁসির কাষ্ঠ থেকে এসে আবারও সংসদে যেতে পারতো না।”

শাখা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পরেও শাসকগোষ্ঠীরা যখন নিজেদের সর্বেসর্বা মনে করেছে এবং জনগণকে অবজ্ঞা করেছে, তখনই আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। জুলাইও আমাদের পড়াশোনা না করে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল। তাই আমরা চাই না এটি বাঞ্চাল হোক।”

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, “ইনসাফপূর্ণ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণ ১২ তারিখে প্রায় ৭০ শতাংশ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন সরকারি দল যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে তখন তারা ৭২-এর সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। তাহলে কোন সংবিধান বলে এই ২৪-এর আন্দোলন হয়েছিল এবং কোন সংবিধান বলে জুলাই আগস্টের বিপ্লব হয়েছিল?” 

শহীদ ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “কেউ যদি এই জুলাইকে উপেক্ষা করতে চায়, কেউ যদি এই গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করতে চায়, তাহলে সে জনগণের যে চাহিদা, সে চাহিদা বাস্তবায়ন করতে আসেনি। বরং সে অদৃশ্য কোনো শক্তির যেই এজেন্ডা সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য এখানে এসেছে।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমার মা-বাবাও যদি এই জুলাইয়ের বিপক্ষে যায়, সে আমার মা-বাবা নয়। আমার ভাই যদি এই জুলাইয়ের বিপক্ষে যায়, সে আমার ভাই নয়। জুলাই আন্দোলনে যেই আকাঙ্ক্ষা ছিল, সে আকাঙ্ক্ষাকে আপনারা উপেক্ষা করে বেশিদিন থাকতে পারবেন না। জেনজিরা ২ হাজার ভাইয়ের প্রাণের বিনিময়ে এই বাংলাদেশকে ফ্যাসিজম মুক্ত করেছে, তারা আবারও প্রয়োজনে প্রাণ দিতে রাস্তায় নামবে।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আপনারা ’৭২-এর সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিস্ট হতে চান কেন? সরাসরি বলেন, আমাদের কোনো সমস্যা থাকবে না।”

শাখা বৈছাআ’র আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “সংবিধান যদি বাইবেলই হত, তাহলে ১৫ থেকে ১৬ বার কেন সংশোধন করা লাগলো? এতবার সংশোধনের পরেও এ সংবিধান মুক্তিকামী জনগণকে মুক্তি দিতে পারে নাই। এ থেকে প্রমাণিত হয় ’৭২ এর সংবিধানের মাধ্যমে যে গাদ্দারি করা হয়েছিল সেটি এখন ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। ছুঁড়ে ফেললে শেখ হাসিনার লেজপেন্সাররা আবার ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই ছুঁড়ে ফেললেই হবে না পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ক্ষমতায় আসার আগে অনেকেই এই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলতে চায় কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর ছুঁড়ে ফেলা সংবিধান কুড়িয়ে এনে শেখ হাসিনা হতে চায়। বাংলাদেশীরা কখনোই কোনো তাবেদারি বা শক্তিশালী কোনো গোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করেনি।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিএনপি অতীতে গাঁধার মত ঘোলা করে জল খেয়েছিল ও একতরফা নির্বাচন করে ১৬ দিন ক্ষমতায় টিকে ছিল এবং শেখ হাসিনাও একই সংবিধান অনুসরণ করেছিল।”

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ছাত্রজনতা ভালো থাকতে চায়, বিচার পেতে চায়, স্বাধীনভাবে কথা বলতে চায়, এই কথাগুলোই জুলাই সনদে আছে। সরকারকে বলতে চাই, গণভোটের গণরায়কে সম্মান করুন ও তা বাস্তবায়ন করুন এবং গণভোট বিলীনের আগে গণপরিষদ গঠন করুন।”

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]