গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এস.কে ব্রিকসের মালিক মো. বোরহান উদ্দিনের (শোয়েব) বিরুদ্ধে ৭ লাখ ইটের অগ্রিম মূল্য বাবদ ৪২ লাখ টাকা দাবির অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বোরহান উদ্দিন শোয়েব বলেন, ২০১৩ সালে গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালীহর গ্রামে তিনি ‘এস.কে ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি প্রতিষ্ঠা করেন। দুই বছর পরিচালনার পর পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি ভাটাটি ২০১৬ সালে ৫ বছরের জন্য ভাড়া দেন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকার ফারুকুল ইসলাম রতনের প্রতিষ্ঠান ‘ফাইজা ব্রিকস, এফ ইসলাম অ্যান্ড কোং’-এর কাছে। ২০২১ সালে ভাড়ার চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি পুনরায় অন্য পক্ষের কাছে ভাটাটি ভাড়া প্রদান করেন।
বোরহান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, গত ২৫ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, ৬০ জন ভুক্তভোগী তাঁর কাছে ৭ লাখ ইটের মূল্য বাবদ ৪২ লাখ টাকা দাবি করছেন। তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, “এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে ও আমার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানান। এগুলো হলো— সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ৬০ জন অভিযোগকারীর দাখিলকৃত মেমোর স্বাক্ষর যাচাই করা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ থেকে তাঁকে রক্ষা করা। সত্য ঘটনা তুলে ধরে তাঁকে সহযোগিতা করতে তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান।
এ সময় গৌরীপুর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোবারক হোসেন বাবুল এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, বোরহান উদ্দিন শোয়েবের বিরুদ্ধে পাওনা সংক্রান্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ সমিতিতে আসেনি। তাছাড়া যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, তখন তিনি সরাসরি মালিকানার দায়িত্বে ছিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে সাবেক ভাড়াটে ফারুকুল ইসলাম রতনকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইটভাটা মালিক সমিতির নেতা মো. আজিজুর রহমান খান, মো. মাহাবুবুর রহমান (মান্না), মো. হুমায়ুন কবীর, মো. খায়ের উদ্দিন রতন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।