এস. এম. জালাল উদদীন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি::
স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পর অবশেষে সংরক্ষণের আওতায় আসছে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকার ঐতিহাসিক গণকবর। মুক্তিযুদ্ধের বেদনাবিধুর স্মৃতিবাহী এই স্থানটি এতদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকলেও বর্তমানে তা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গণকবর সংরক্ষণ কাজ পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাবরিনা আক্তার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাছুম রেজা, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান চুনু, ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ও আব্দুল কাইয়ুমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বলেন, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের পর বহু শহীদের মরদেহ বিভিন্ন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে ছিল। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে এসব গণকবর রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, গণকবরটি সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারবে। আগামী ২৫ মার্চ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এই গণকবর সংরক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকাররা ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করে এই স্থানে গণকবর দেয়।
জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের এই গণকবরটি সংরক্ষণের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং শহীদদের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জীবন্ত হয়ে উঠবে।