কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ ও স্বস্তিদায়ক করতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের রোভার স্কাউট সদস্যরা।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে উপজেলার ব্যস্ততম কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের কাপাসিয়া মোড় এলাকায় পথচারী ও ওই সড়কের যাত্রীদের বিষয়টি নজর কারলেও মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে তারা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশের সাথে কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ঈদের আগে প্রতি বছরই কাপাসিয়া মোড় ও আশপাশের এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যা যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে একদল উদ্যমী তরুণ, যারা ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
রোভার স্কাউট সদস্যরা অটোরিকশা, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল সুশৃঙ্খল করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধে সচেতনতা তৈরি করছেন এবং চালকদের সঠিক নিয়ম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছেন।
স্কাউট সূত্রে জানা যায়, তাদের এই কার্যক্রম টানা তিন দিন চলবে-১৭ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পালাক্রমে সদস্যরা কাপাসিয়া মোড় ও কলেজ রোড এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এক পথচারী জানান, “ঈদের সময় এই এলাকায় সবসময়ই তীব্র যানজট থাকে। কিন্তু আজ স্কাউটদের কারণে অনেকটাই স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে রোভার স্কাউট দলের সিনিয়র রোভার মেট মো. মনোয়ার হোসেন শিহাব এবং রোভার মেট মো. ইসতাক মোড়ল বলেন, “স্কাউটিং মানেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের আনন্দ যেন কারও জন্য ভোগান্তির কারণ না হয়-এই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে সড়কে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ সময় রোভার স্কাউটদের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করায় আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের মানবিক কাজে যুক্ত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, “তরুণদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। রোভার স্কাউট সদস্যরা যে দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে, তা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি প্রতিবেদককে জানান, “ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোভার স্কাউটদের এই কার্যক্রম শুধু যানজট নিরসনেই সহায়ক নয়, বরং মানুষের মাঝে শৃঙ্খলা ও নিয়ম মেনে চলার মানসিকতাও গড়ে তুলছে। পুলিশের পাশাপাশি তারা যে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই প্রশংসার।
তাদের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ এলাকাবাসীর মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, তরুণদের এমন অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।