জ্বালানি সংকট: দক্ষিণের ঈদযাত্রার ফিরতি টিকিট নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপলোড সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০২:২০:০১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ০২:২০:০১ অপরাহ্ন

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। নাড়ির টানে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আগেভাগেই বাসের টিকিট ও লঞ্চের কেবিন বুকিংয়ের জন্য ভিড় করছেন যাত্রীরা। তবে এবারের ঈদযাত্রায় আনন্দের পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ফিরতি যাত্রা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৭ মার্চ থেকে বরিশালমুখী যাত্রীর চাপ বাড়বে এবং ঈদ শেষে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে ফিরতি যাত্রা। ইতোমধ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ১৬ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রায় সব লঞ্চের কেবিন বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে অনেক যাত্রীই কেবিন পাচ্ছেন না।

ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা তানভীর ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রার সব ধরনের কেবিন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। অন্যদিকে এম খান-৭ লঞ্চের ম্যানেজার শুভ জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় বরিশালমুখী প্রায় সব কেবিনই আগেভাগে বুকিং হয়ে গেছে। তবে লঞ্চের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ফিরতি যাত্রার বুকিং নিয়ে।

এ বিষয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। লঞ্চঘাটে টিকিটের জন্য ভিড় করা কয়েকজন যাত্রী জানান, ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার টিকিট পাওয়া গেলেও ফিরতি টিকিট নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। একজন যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন,ঈদের আগে বাড়ি যাওয়ার টিকিট পেয়েছি, কিন্তু ঢাকায় ফেরার টিকিট এখনো পাইনি। যদি পরে টিকিট না পাই তাহলে কর্মস্থলে ফিরতে সমস্যা হবে।

আরেক যাত্রী রিয়াদুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর আমরা যাওয়া-আসার টিকিট একসঙ্গেই কিনে রাখি। কিন্তু এবার কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে এখনই ফিরতি টিকিট দেওয়া যাবে না। এদিকে সড়কপথেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বরিশালগামী বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও ফিরতি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না সহজে। বরিশালের লাবিবা পরিবহনের ম্যানেজার আকাশ রহমান বলেন, আগের বছরগুলোতে যাত্রীরা যাওয়া-আসার টিকিট একসঙ্গে কিনতেন।

কিন্তু এবার জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় আমরা রিটার্ন টিকিটের অগ্রিম বুকিং নিচ্ছি না। অন্যদিকে হানিফ পরিবহনের বরিশাল কাউন্টারের ম্যানেজার মামুন জানান, যদি জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, তাহলে যাত্রীরা কাউন্টারে এসেই ফিরতি টিকিট কিনতে পারবেন।

তবে এখনই আগাম বুকিং নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বরিশাল নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসীম কুমার শিকদার বলেন, ঈদযাত্রা উপলক্ষে লঞ্চঘাট ও টার্মিনাল এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া বা টিকিট সংক্রান্ত অনিয়ম ঠেকাতে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। তাই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বাড়তি নজরদারি করছি। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রেখেই ঈদযাত্রা সম্পন্ন হবে। তবে জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসের রাউন্ড ট্রিপ সম্পন্ন করতে প্রায় ১০০ থেকে ১১০ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। তবে জ্বালানি সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মেঘনা পেট্রোলিয়াম বরিশাল ডিপোর ম্যানেজার মো. শাহ আলম বলেন,জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঈদ সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়লেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কার কারণে ফিরতি যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক যাত্রীই এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না ঈদের ছুটি শেষে ঠিক কবে এবং কীভাবে কর্মস্থলে ফিরবেন।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]