নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের হাত বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ কয়েকটি ঘর পুড়ে যায়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই এলাকার মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সঙ্গে হাসান মুন্সি গ্রুপের বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।
মামলার বাদী রেখা আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে তার স্বামী আলমগীর হাওলাদার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজ বসতঘরের দিকে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে কামরুল হাওলাদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় লাভলু হাওলাদারের নির্দেশে কামরুল হাওলাদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলমগীর হাওলাদারের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে চাপাতি, ছেনদা ও টেটা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা আলমগীর হাওলাদারের ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে নারীসহ আরও তিনজন আহত হন।
হামলার সময় বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলমগীর হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ বেশ কয়েকটি বসতঘর পুড়ে যায় এবং লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন লাগানো হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। স্থানীয়রা একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে দুটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদল নেতা কামরুল হাওলাদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩৪১, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াইফাই ব্যবসায়ী আলমগীর হাওলাদারকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুল হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের হাত বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ কয়েকটি ঘর পুড়ে যায়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই এলাকার মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার গ্রুপের সঙ্গে হাসান মুন্সি গ্রুপের বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত।
মামলার বাদী রেখা আক্তার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে তার স্বামী আলমগীর হাওলাদার বাড়ি থেকে বের হয়ে নিজ বসতঘরের দিকে যাওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে কামরুল হাওলাদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় লাভলু হাওলাদারের নির্দেশে কামরুল হাওলাদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলমগীর হাওলাদারের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে চাপাতি, ছেনদা ও টেটা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা আলমগীর হাওলাদারের ডান হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে নারীসহ আরও তিনজন আহত হন।
হামলার সময় বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটও চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলমগীর হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ লোকজন প্রতিপক্ষের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে জেলা বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বসতঘরসহ বেশ কয়েকটি বসতঘর পুড়ে যায় এবং লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শেখ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন লাগানো হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়। স্থানীয়রা একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরে দুটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার বাদী হয়ে জেলা ছাত্রদল নেতা কামরুল হাওলাদারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩৪১, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে।