বৃহত্তর ঐক্যের আলোচনায় এনসিপিসহ জুলাই শক্তি

আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ১১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ১১:৩৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হাত ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) একাধিক নতুন রাজনৈতিক দল গঠন হয়েছে। গড়ে উঠেছে নানা ধরনের শতাধিক প্ল্যাটফর্ম। বিগত সময়ে এসব সংগঠনের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হলেও অতি সম্প্রতি তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তবতায় জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তির মধ্যে দূরত্ব ঘোচানোর তাগিদ না থাকলেও নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকারের বাস্তবতায় তারা ভিন্নভাবে চিন্তা শুরু করেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জুলাইশক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছে।

 
নতুন সব দল ও প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো, পদত্যাগ করা এবং নিষ্ক্রিয় নেতাদের সক্রিয় করা, বিচ্ছিন্ন থাকা জুলাই শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা, কিছু সংগঠনের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া। তবে এই আলোচনার মধ্যেই এনসিপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি অংশ সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এর আগে এনসিপি থেকে বেরুনো বাম ঘরানাসহ আরো দুইটি অংশ আলাদা প্ল্যাটফর্ম গড়েছে। তারা জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পৃথকভাবে এগুনোর কথা জানিয়েছে। তবে এগুলোসহ জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চলা যেকোনো প্ল্যাটফর্মের প্রতি এনসিপিসহ অন্য জুলাই শক্তিগুলোর প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকবে।
 
 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি দলের এমপিদের শপথ না নেওয়া, সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে উচ্চ আদালতের রুল জারি, ফ্যাসিস্ট শক্তির নানাভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা, জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশের জামিনে মুক্তি পাওয়া, তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া, জুলাই শক্তির ওপর আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং প্রশাসন দলীয়করণসহ নানা কারণে তারা নতুন করে ঐকবদ্ধ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
 
 

কয়েকটি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতাকে কেন্দ্র করে এনসিপিতে এক ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এই ইস্যুতে তখন দলটির কিছু নেতা-নেত্রী পদত্যাগ করেন, কিছু নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। কারো পদত্যাগ গ্রহণ না করায় তাদের দলে ফেরানো এবং নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিপি। নির্বাচনের পর দলটির সাধারণ সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সার্বিক বিবেচনায় ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়ে দলের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি তুলে ধরা হয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। এতে পদত্যাগকারী ও নিষ্ক্রিয়দের দলে সক্রিয় হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। অনেককে মোবাইলে ফোন করেও তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর তাদের দলে ভূমিকা দৃশ্যমান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।
 
 

সূত্রমতে, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ সংগঠনটির একটি বড় অংশ এনসিপিতে ফিরতে পারেন। এনসিপি গঠনের সময় তাদের দলটিতে যুক্ত হওয়া না হওয়া নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। এখন নতুন করে সেই আলোচনা চলছে, একাধিক বৈঠকও হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা জুনায়েদ ও রিফাত আগে জাতীয় নাগরিক কমিটির যথাক্রমে যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। আপ বাংলাদেশের একটি অংশ এখনকার মতো প্রেসার গ্রুপ থাকতে পারে এবং আরেকটি অংশ নতুন দলও গঠন করতে পারে।
 
 

সূত্র জানায়, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির নেতাদেরও এনসিপিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে উভয় দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। সেটি আলোর মুখ না দেখলেও এনসিপি ও এবি পার্টি ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে নতুন সরকারের সময় রাজনৈতিক পরিবর্তিত বাস্তবতায় এখন নতুন করে সেই আলোচনা শুরু করার কথা ভাবা হচ্ছে উভয় দলের দিক থেকে। এ ছাড়া জুলাই সংগ্রাম পরিষদ, জুলাই বিপ্লব পরিষদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোর কিছু এনসিপির সঙ্গে একীভূত বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আলোচনাও চলছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com