নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় মামলা; র্যাবের অভিযানে ভিকটিম উদ্ধারসহ প্রধান আসামি পাবনা থেকে গ্রেফতার
গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় মামলা; র্যাবের অভিযানে ভিকটিম উদ্ধারসহ প্রধান আসামি পাবনা থেকে গ্রেফতার
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম (১১ বছর ০২ মাস) অষ্টম শ্রেণীর একজন নিয়মিত ছাত্রী। গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিমকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেম-ভালবাসার প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বাদী বিষয়টি জানতে পারলে উক্ত বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আসামিকে সতর্ক করলে আসামি বাদীর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ভিকটিমকে পুনরায় বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এরই ধারাবহিকতায় ইং ২২/০২/২০২৬ তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় ভিকটিম প্রাইভেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগী আসামিগণ মিলে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে জোরপূর্বক অজ্ঞাতনামা স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে গত ইং ২৪ /০২/ ২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৩৩।
এরই ধারাবহিকতায় ইং ২২/০২/২০২৬ তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকায় ভিকটিম প্রাইভেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগী আসামিগণ মিলে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুল বুঝিয়ে জোরপূর্বক অজ্ঞাতনামা স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে গত ইং ২৪ /০২/ ২০২৬ তারিখ গাইবান্ধা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৩৩।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব -১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এবং র্যাব -১২, সিপিসি-২, পাবনা এর যৌথ আভিযানিক দল ইং ০৫/০৩/ ২০২৬ তারিখ রাত ১০.০০ ঘটিকায় পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানাধীন ভদ্রকোলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ তামিম মিয়া (২১), পিতা-মোঃ রশিদুল ইসলাম, সাং-ভাটপাড়া গোপালপুর, থানা-গাইবান্ধা সদর, জেলা-গাইবান্ধা’কে গ্রেফতার এবং ভিকটিম‘কে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামি এবং ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানি, মাদক, চোরাকারবারসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।