রাষ্ট্রপতির বক্তব্য : নৈতিকতা এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপট

আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০১:২৯:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০১:২৯:৩৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতি এমনই যে, ঝামেলা একটি নিত্যদিনের ঘটনা। এখানে ঝামেলা এবং সংকটের মধ্যে পার্থক্যটা বুঝতে হবে। কারণ ঝামেলা এবং সংকটের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক, তা অধিকাংশ মানুষই বুঝতে পারেন না।

 
তবে ঝামেলা অতিদ্রুত সংকটে রূপান্তরিত হয়। কাজেই এই ঝামেলাকে অতিদ্রুত সমাধান, প্রয়োজনে কঠিনভাবে মোকাবিলা করতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। ঝামেলা আপাত নিরীহ মনে হলেও এখন এটি সম্ভাব্য সংকটে রূপান্তরের ‘বিষবৃক্ষ’ হতে পারে। রাজনীতিতে ঝামেলা এবং সংকটের পার্থক্য হচ্ছে, হুমকির মাত্রা পরিস্থিতির জরুরি অবস্থান এবং রাজনৈতিক স্বাভাবিক কাজকর্মের নিম্ন ও উচ্চঝুঁকির মাত্রার ক্ষেত্রে। ঝামেলা, আপাত নিরীহ এবং পরিচালনক্ষম আর সংকট, তীব্র, নীতিকৌশলে প্রচণ্ড আঘাত সৃষ্টিকারী এবং বড় হুমকিস্বরূপ।


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকার এবং বক্তব্যগুলো আপাত ঝামেলাপূর্ণ মনে হলেও ভবিষ্যতে এটি সংকটের বড় আলামত কি নাÑতার দায়দায়িত্ব ক্ষমতাসীনদের হাতে ছেড়ে দেওয়া ভালো।

তবে মনে রাখতে হবে, ‘রাষ্ট্রপতি’ ‍শুধু একজন ব্যক্তি নন, এটি একটি প্রতিষ্ঠান। যে মুহূর্তে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন, সেই মুহূর্ত থেকে ব্যক্তি ‘মো. সাহাবুদ্দিন’ নামের সত্তাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা অটোমেটিক বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ কারণেই ‘সংবিধান’ নামক পুস্তকটির এত গুরুত্ব। মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যে শপথ পাঠ করেন তাতে বলা হয়েছে, ‘আমি সংবিধানের রক্ষক, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহীত আচরণ করিব।’

এছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ সবাইকে শপথ ও ‘গোপনীয়তার শর্ত’ প্রতিপালন করতে হয়।

আগেই বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি হলে ব্যক্তি সত্তাটি বিলুপ্ত হয়। তাছাড়া তিনি ‘কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হবেন না।’

রাষ্ট্রকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নীতিশাস্ত্র বা Ethics and moral Philosophy— অর্থাৎ নৈতিকতা এবং নীতিশাস্ত্রীয় দর্শন। এ বিষয়ে পরে আলোচনায় আসব।

রাষ্ট্রপতি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সংবাদপত্রে যে সাক্ষাৎকার দেন, আশা করি অনেকেই তা জানেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করার এবং সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির অনেক পাঁয়তারা হয়েছে।... তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এই কঠিন সময়ে ও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব আমার পাশে ছিল। বিশেষ করে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। হি ওয়াজ সো গোর্ডিয়াল। আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।

এ গেল বিএনপি সম্পর্কে কথা। সশস্ত্র বা তিন বাহিনীর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সময় আমার কাছে এসে আমাকে মনোবল দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে আরেকবার আমাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে শুনেছি। তখনো তিন বাহিনীর প্রধান আমার পক্ষে অবস্থান নেন।’

এই সাক্ষাৎকারটি পড়ার পর একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যে প্রশ্নটি জাগে প্রথমেই, তা হলোÑএই সাক্ষাৎকারটি ‍‘শপথ গ্রহণকারী রাষ্ট্রপতির’ না ব্যক্তি মো. সাহাবুদ্দিনের? যদি সংবিধান মোতাবেক শপথ গ্রহণকারী রাষ্ট্রপতির হয়, তাহলে যেকোনো বিচারে, বিশেষ করে সংবিধান অনুযায়ী তার ‘রাষ্ট্রপতি সত্তার’ বিলুপ্তি হয়ে গেছে। কারণ ‘অনুরাগ বা বিরাগের’ বিষয়টি তিনি বাদেও এর সঙ্গে রাষ্ট্রের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। আর যদি ব্যক্তি মো. সাহাবুদ্দিনের হয়, তাহলে তিনি ন্যায়-নীতি, সংবিধান বিসর্জন দিয়ে ‘রাষ্ট্রপতি’ পদের অপসুযোগ ও অপব্যবহারের সুযোগ গ্রহণ করেছেন। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় Misuse, Abuse of Power.

এখন রাষ্ট্রপতিকে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে, অতি অবশ্যই।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]