রাহাদ সুমন, বিশেষ প্রতিনিধি
ইলিশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ আহরণ গতকাল রোববার (১ মার্চ) থেকে দুই মাস বন্ধ থাকবে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। যা আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জাটকা ইলিশ (১০ ইঞ্চির কম) পূর্ণাঙ্গ ইলিশে পরিণত হওয়া নিরাপদ রাখতে মোট ছয়টি অভয়াশ্রমে সরকার প্রতিবছরের দুই মাস মাছ আহরণ বন্ধ রাখে। এর মধ্যে পাঁচটি অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় মার্চ-এপ্রিলে। মেঘনা, পদ্মা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অবস্থিত এসব অভয়াশ্রমের মোট জলসীমা ৩৯২ কিলোমিটার।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি অভয়াশ্রমের মধ্যে শুধু পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সাগর-সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা পালিত হয় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর। অভয়াশ্রমগুলোতে শুধু ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। অন্য মাছ ধরার অজুহাতে নদীতে নেমে ইলিশ নিধন ঠেকাতে সব ধরনের জেলে ও নৌকা নিষিদ্ধ থাকে এ সময়ে।
নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়া পাঁচটি অভয়াশ্রমের সীমানা হচ্ছে– ভোলা সদরের চর ইলিশার মদনপুর থেকে ভোলা জেলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহাবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার; চাঁদপুর জেলার ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থেকে ভেদরগঞ্জ পর্যন্ত নিম্ন পদ্মার ২০ কিলোমিটার, বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জের বামনীরচর, মেহেন্দিগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট এবং হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ-সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত মোট ৮২ কিলোমিটার নদ-নদী। এ সীমানার মধ্যে থাকা নদীগুলো হচ্ছে– মেঘনা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, নয়ভাঙ্গুলী, গজারিয়া ও কীর্তনখোলার একাংশ। এ প্রসঙ্গে
তিনি আরও বলেন, এ দুই মাসে সহায়তা হিসেবে কার্ডধারী প্রতি জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় মাসে ৪০ কেজি করে চাল পাবেন। এ ছাড়া ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প থেকে ডাল ও তেলসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হবে তাদের। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই অভয়াশ্রমগুলোতে সাতদিন করে দুটি কম্বিং অপারেশন চালানো হবে। প্রথম কম্বিং অপারেশন রোববার থেকে শুরু হয়েছে।