বিমানবন্দরে শত কোটি টাকার স্বর্ণ পাচারের সময় হাতেনাতে আটক অভিনেত্রী, অভিযোগপত্র দাখিল

আপলোড সময় : ২৬-০২-২০২৬ ০৯:০৩:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০২-২০২৬ ০৯:০৩:৩১ অপরাহ্ন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের কর্নাটক রাজ্যে বহুল আলোচিত শত কোটি রুপির স্বর্ণ পাচার মামলায় কন্নড় চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী রান্যা রাওয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। 

 

প্রয়োগকারী অধিদপ্তর সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর বিশেষ অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

 

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, গত এক বছরে একটি সুসংগঠিত চক্রের মাধ্যমে ১২৭ কিলোগ্রামের বেশি স্বর্ণ ভারতে পাচার করা হয়েছে। এ স্বর্ণ দুবাই থেকে বেঙ্গালুরু হয়ে দেশে আনা হতো এবং পরে স্থানীয় বাজারে নির্দিষ্ট দালাল ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিক্রি করা হতো। 

 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত। অভিযোগপত্রে রান্যা রাও ছাড়াও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তরুণ কোন্ডুরু এবং বেল্লারি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাহিল সাকারিয়া জৈনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

 

তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, পাচার হওয়া স্বর্ণ নগদ টাকার মাধ্যমে বিক্রি করা হতো এবং সেই অর্থ দেশের ভিতরে ও বাইরে হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বয় করা হতো। 

 

৩৩ বছর বয়সি রান্যা রাও কর্নাটকের এক জ্যেষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তার সৎ কন্যা। গত বছর বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে তাকে স্বর্ণ পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। 

 

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, তিনি দুবাই থেকে ফিরছিলেন। তার গতিবিধি নজরদারিতে ছিল, কারণ মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে এটি ছিল তার চতুর্থ দুবাই সফর। সন্দেহ হওয়ায় শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তল্লাশি চালিয়ে ১৪ দশমিক ২ কিলোগ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করেন। এর কিছু অংশ তিনি শরীরে অলঙ্কার হিসেবে পরেছিলেন এবং বাকি অংশ পোশাকের ভিতরে লুকিয়ে রাখা ছিল।

 

বিমানবন্দরের বেরোনোর দরজার কাছাকাছি পৌঁছনোর পরই তাকে আটক করা হয়। এরপর তদন্তকারীরা তার বাসভবনে তল্লাশি চালান। সেখান থেকে ২ কোটি ৬ লাখ রুপির স্বর্ণালঙ্কার এবং ২ কোটি ৬৭ লাখ রুপির ভারতীয় মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। 

 

তদন্তকারীদের দাবি, তিনি প্রতিটি কিলোগ্রাম স্বর্ণ পাচারের জন্য আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি কমিশন পেতেন। এ কমিশনের অর্থ নগদে লেনদেন হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। 

 

অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাচারের অর্থের উৎস, লেনদেনের ধরণ এবং চক্রের কাঠামো বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে এটি ছিল একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক, যেখানে বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনা, দেশে বিক্রি এবং অর্থ স্থানান্তরের পৃথক পৃথক ব্যবস্থা ছিল।

 

এর আগে রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর এ মামলায় রান্যা রাওয়ের বিরুদ্ধে ১০২ কোটি রুপি জরিমানা ধার্য করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রয়োগকারী অধিদপ্তর আর্থিক লেনদেনের দিকটি তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের ফলেই বেঙ্গালুরুর বিশেষ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

 

বর্তমানে রান্যা রাও বেঙ্গালুরু কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চলবে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এ চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ দক্ষিণ এশিয়ায় স্বর্ণ পাচার একটি বড় চক্র হিসেবে বহু বছর ধরেই আলোচিত। দুবাই থেকে ভারত হয়ে বিভিন্ন দেশে স্বর্ণ পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। এ মামলায় চলচ্চিত্র জগতের এক পরিচিত মুখের নাম জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। 

 

অভিযোগপত্র কবে দাখিল করা হয়েছে তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর বিশেষ অর্থপাচার প্রতিরোধ আদালতে এটি জমা পড়েছে। আদালত নথি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করবে। এখন নজর আদালতের কার্যক্রমের দিকে। ১০২ কোটি রুপির স্বর্ণ পাচার মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে তদন্ত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল। বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হবে কি না, তা সময়ই বলবে। আপাতত অভিযুক্তরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছেন।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]