ছেলে সন্তান না হওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ৩ কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা

আপলোড সময় : ২৬-০২-২০২৬ ০২:১১:১০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০২-২০২৬ ০২:১১:১০ অপরাহ্ন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিল্লিতে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক ব্যক্তি তার দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তিন কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উত্তর দিল্লির সময়পুর বাদলি এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ছেলে সন্তান না হওয়ায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে পাষণ্ড স্বামী, প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা পুলিশের।

 

 প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের শিকার ওই তরুণীর নাম অনিতা (২৭)। এছাড়া নিহত কন্যাশিশুদের বয়স যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৫। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাদের মরদেহ দেখতে পান। অভিযুক্ত স্বামী মুনচুন কেওয়াত ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

 

উত্তর দিল্লির আউটার নর্থ জেলার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ হরেশ্বর স্বামী বলেন, ‘বুধবার সকাল প্রায় ৮টার দিকে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। সময়পুর বাদলি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে একতলার একটি ঘরের ভেতরে রক্তে ভেজা অবস্থায় নারী ও তিন শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।’ ঘটনাস্থলকে ‘অত্যন্ত নৃশংস’ বলে বর্ণনা করেছেন তদন্তকারীরা। তারা বলছেন, অত্যন্ত ধারালো অস্ত্রের আঘাতগুলো এতটাই গভীর ছিল যে নিহতদের শ্বাসনালি কেটে গেছে।

 

অনিতা, মুনচুন কেওয়াত ও তাদের সন্তানরা চন্দন বিহারের একটি গলিতে এক কক্ষের ভাড়াবাড়িতে থাকতেন এবং মুনচুন আজাদপুর মান্ডিতে সবজি বিক্রি করতেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকে মুনচুনের ১০ বছর বয়সী ভাতিজাই প্রথম মরদেহগুলো দেখতে পায়। শিশুটি দৃশ্যটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছে। সে বলে, ‘বাইরের দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল, আমি খুলে ভেতরে ঢুকি। ভেতরে ঢুকে দেখি সবাই অচেতন, চারদিকে রক্ত।’

 

প্রধান সন্দেহভাজন মুনচুন কেওয়াত পলাতক থাকায় সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এর মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টিও রয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, দম্পতির তিন কন্যাসন্তান থাকা এবং পুত্রসন্তান না হওয়াই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হতে পারে।

 

পুলিশ সূত্রে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্ত্রী ও সন্তানদের নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করার পর তাদের গলা কেটে হত্যা করেছে। এক তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার রাতে দম্পতির মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছিল বলে এক প্রতিবেশী পুলিশকে জানিয়েছেন।

 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বুধবার ভোর প্রায় ৫টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়ির কাছের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তার মোবাইল ফোন জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর সকাল ৮টা ৭ মিনিটে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে একটি ফোন আসে। মুনচুন কেওয়াত মূলত বিহারের পাটনা জেলার বাসিন্দা এবং গত দুই বছর ধরে দিল্লিতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। স্বজনদের দাবি, সাধারণত এই দম্পতির মধ্যে বড় ধরনের ঝগড়া হতো না।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com