​সাতক্ষীরা-৪: জামায়াতের ‘দুর্গে’ বিএনপির তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্ভাবনাময় হাতছানি

আপলোড সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৬:৫৩:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০২-২০২৬ ০৬:৫৩:১২ অপরাহ্ন


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

ভোটের বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। এর মধ্যেই উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের নির্বাচনী মাঠ দারুণ জমে উঠেছে। এই আসনে মূলত লড়াই হচ্ছে দ্বিমুখী—বিএনপির ‘তরুণ তুর্কি’ ড. মো. মনিরুজ্জামান বনাম জামায়াতে ইসলামীর দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নজরুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার লড়াই এখন তুঙ্গে।

ঐতিহাসিকভাবে শ্যামনগরকে জামায়াতের শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে এই আসনে জামায়াত নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পর এবার সেই দুর্গে ফাটল ধরানোর আভাস দিচ্ছেন বিএনপির তরুণ প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান। তাঁর আধুনিক ও ‘ক্যারিসম্যাটিক’ নেতৃত্ব সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সব স্তরের নেতা-কর্মীরা এখন একাট্টা হয়ে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নেমেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
নিজেদের ‘ভোট ব্যাংক’ ঠিক রাখার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের টানতে মরিয়া জামায়াত প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তাঁর পক্ষে একঝাঁক নারী কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। জামায়াত নেতারা প্রচার করছেন, ৫ আগস্টের পর কিছু জায়গায় বিএনপি নামধারী ব্যক্তিদের দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনার বিপরীতে তাঁরা এক নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চান। নজরুল ইসলাম এর আগে দুইবার এমপি হলেও ক্ষমতায় বিএনপি থাকায় কাজ করতে পারেননি বলে ভোটারদের কাছে দাবি করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

“দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। আগে তো একজনকে দুবার দেখেছি, এবার তরুণ প্রার্থী মনিরুজ্জামানকে একবার সুযোগ দিয়ে দেখতে চাই।” — হোসেন আলী, চা-বিক্রেতা, বাদঘাটা গ্রাম।
ড. মনিরুজ্জামান (বিএনপি): তিনি নির্বাচিত হলে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা এবং তিন বছরের মধ্যে শ্যামনগরকে অর্থনৈতিক জোনে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
মো. নজরুল ইসলাম (জামায়াত): তিনি আধুনিক শ্যামনগর গড়া, দুর্নীতি বন্ধ এবং দুর্গম গাবুরা ও পদ্মপুকুর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।

এই আসনে প্রায় ৭৬ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার রয়েছেন। ড. মনিরুজ্জামান তাঁদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে চাউর আছে। অন্যদিকে জামায়াতও সামাজিক নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নিশ্চয়তা দিয়ে তাঁদের ভোট টানার চেষ্টা চালাচ্ছে।

একনজরে নির্বাচনী তথ্য এখানে তুলে ধরা হলোÑ মোট ভোটার: ২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৫৭ জন। নারী ভোটার: ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৬ জন। ভোট কেন্দ্র: ৯৬টি।
জাতীয় পার্টির এড. আব্দুর রশিদের কোনো প্রচারণা না থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের এস এম মোস্তফা মনিরের কিছু তৎপরতা চোখে পড়ছে। তবে দিনশেষে মূল লড়াইটা যে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, তা সাধারণ মানুষের আলোচনায় স্পষ্ট।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com