স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া–আটপাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে শুরু থেকেই ছিল ব্যাপক আলোচনা। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মোট আটজন নেতা। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ ও লবিং শেষে দলীয় সিদ্ধান্তে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ আলমগীর খসরু প্রকাশ্যে ড. হিলালীর প্রতি সমর্থন জানান এবং নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তবে মনোনয়ন বঞ্চিত সাত নেতার মধ্যে কেবল দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডি জেড এম হাসান বিন শফিক সোহাগ, শিল্পপতি ও রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান এবং শিল্পপতি ও সিআইপি খেতাবপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার মো. মোস্তাফা-ই-জামান সেলিম দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-ক্রীড়া সম্পাদক রায়হান আমিন তালুকদার রনি এবং যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা মেজর (অব.) সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিককে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় তেমনভাবে দেখা যায়নি।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলীয় প্রার্থীর প্রচারণা জোরদার হচ্ছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিমত, মনোনয়ন বঞ্চিত সকল নেতা নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হলে এ আসনে বিএনপির বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে উঠবে।
তবে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, মনোনয়ন বঞ্চিতদের মধ্য থেকে দু–একজন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে অন্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। যদিও মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেছেন, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তের পক্ষেই থাকবেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্যই নির্বাচনী ফলাফলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।