প্রকৃতির কোলে জ্ঞানের আলোয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় লালমাই পাহাড়ের কোলে জ্ঞানের আলোয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

আপলোড সময় : ২৯-০১-২০২৬ ১০:৫২:২০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০১-২০২৬ ১০:৫২:২০ অপরাহ্ন
 
মনির  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
 
একদিকে কর্মব্যস্ত ঢাকা, অন্যদিকে বাণিজ্যিক চট্টগ্রাম এই দুই মহানগরের ঠিক মাঝামাঝি সহস্র বছরের প্রাচীন লালমাই পাহাড়শ্রেণির টিলায় টিলায় ছড়িয়ে আছে সবুজের নীরবতা। যেন যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মানুষকে খানিকটা স্বস্তি দিতে প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়ে রেখেছে এই অঞ্চল। দূষণ ও ব্যস্ততায় যখন বড় শহরগুলো নাকাল, তখন নির্মল বাতাস আর প্রশান্তির খোঁজে মানুষ ছুটে আসে এই টিলা অঞ্চলে। আর সেই টিলার বুকে গড়ে ওঠা নবীনতম আকর্ষণ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
 
প্রাচীন শালবন বিহারের পাদদেশে অবস্থিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন ইতিহাস ও আধুনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন। বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির শেকড় জানতে যেমন শালবন বিহার অপরিহার্য, তেমনি আধুনিক শিক্ষাচর্চা ও মননশীলতার প্রতিচ্ছবি দেখতে হলে আসতেই হয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এক ঢিলে যেন দুই পাখি মারা।
 
শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পা রাখা এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি পাচ্ছে। এখানকার শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর দেশ-বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে। প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা ক্যাডারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কর্মরত কুবির সাবেক শিক্ষার্থীরা দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
 
প্রতি বসন্তে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। কৃষ্ণচূড়া, শিমুল আর পলাশের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধরা পড়ে কুবির নান্দনিক সৌন্দর্য। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মসজিদ, বিভাগীয় ভবন ও হলগুলো প্রতিবছরই নতুন এক রূপে হাজির হয়। টিলার ওপর অবস্থিত দত্ত হল থেকে বৃষ্টির দিনে লাল মাটি মিশে নেমে আসা পানির ধারা সৃষ্টি করে অনন্য এক নৈসর্গিক দৃশ্য।

 
ভোরের কুবি এক অন্যরকম আবেশ তৈরি করে। সূর্য ওঠার আগেই শিক্ষার্থীদের দেখা মেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। কেউ প্রাতঃভ্রমণে, কেউ ব্যায়ামে, কেউবা নিঃশব্দে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে আসে। কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে ফজরের নামাজ শেষে শিক্ষার্থীদের স্রোত নেমে আসে শহীদ মিনারের দিকে। ঘণ্টাখানেক শরীরচর্চা আর আড্ডার পর সকালবেলার ব্যস্ততা শুরু হয়।
 
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনার হয়ে ওঠে এক ব্যাচ থেকে আরেক ব্যাচের মিলনমেলা। জুনিয়র-সিনিয়রের গল্প, আড্ডা আর স্বপ্ন ভাগাভাগির জায়গা এটি। ভরদুপুরে কোলাহল কিছুটা কমলেও বিকেলের পড়ন্ত আলোয় শহীদ মিনার আবার প্রাণ ফিরে পায়। কেউ আসে পরীক্ষার চাপ ঝেড়ে ফেলতে, কেউ বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটাতে। দূরের লালমাই পাহাড় আর কেন্দ্রীয় মাঠে ফুটবল-ভলিবলের খেলা দেখতে দেখতে কখন যে সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে, তা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না।
 
শহীদ মিনারের এক কোণে ভেসে আসে গানের সুর, অন্য কোণে বসে কোনো সংগঠনের বৈঠক। সন্ধ্যার পরও এখানে থামে না প্রাণচাঞ্চল্য। হল বা বিভাগের ছোট ছোট গ্রুপে শিক্ষার্থীরা গল্পের আসর জমায়, যা চলে অনেক সময় রাত অবধি। বলা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তচিন্তার সবচেয়ে সক্রিয় চর্চা হয় এই শহীদ মিনার চত্বরে। একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবসসহ জাতীয় দিবসগুলোতে প্রশাসনের সাজে শহীদ মিনার হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল। এটি যেন কুবির ফুসফুস যাকে ছাড়া এই ক্যাম্পাস কল্পনাই করা যায় না।
 
কেন্দ্রীয় মসজিদও কুবির এক অনন্য পরিচয়। লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই মসজিদ স্থাপত্য ও পরিবেশের দিক থেকে অনন্য। প্রায় নব্বই শতাংশ মুসলিম শিক্ষার্থীর প্রাণের স্পন্দন এই মসজিদকে ঘিরেই। পাহাড়ের ওপর দত্ত হল ও নিচের বিজয় ২৪ হল থেকে দল বেঁধে শিক্ষার্থীদের মসজিদে আসা এক স্বর্গীয় দৃশ্যের জন্ম দেয়। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ ও চারপাশের খোলা জায়গা সেজদারত শিক্ষার্থীদের মনকে আরও প্রশান্ত করে তোলে।
 
শালবন বিহারকে ঘিরে দর্শনার্থীদের আগমন যেমন নিয়মিত, তেমনি তারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও ঘুরে যান। প্রকৃতি, ইতিহাস আর শিক্ষার এই মিলনস্থল সবার মনেই আলাদা ছাপ ফেলে।
 
এই নৈসর্গিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে নিবেদিত প্রাণ হবে এমন প্রত্যাশাই লালন করে কুবি পরিবার। শত সীমাবদ্ধতার মাঝেও এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দেয় প্রশান্তি, স্বপ্ন আর এগিয়ে যাওয়ার সাহস।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com