সাইদুল ইসলাম বালাগঞ্জ সিলেট ক্রাইম রিপোর্টার প্রতিনিধি ::
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা প্রবেশদ্বার থেকে বালাগঞ্জ-তাজপুর (আকবর সেন্টারের সামন) সড়কের সংযোগ পর্যন্ত মাত্র ৬৬৭ মিটার সড়কের বেহাল দশা। দেখার কেউ নেই!
উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন ও বালাগঞ্জ সদরের রাধাকোনা, করচারপাড়, মোহাম্মদ নগর, উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকার অর্ধলাখ মানুষ চলাচলের একমাত্র সড়ক। উপজেলায় আসা-যাওয়া এবং যান চলাচলের আর কোনো বিকল্প সড়ক নেই।
এদিকে, মাত্র ৬৬৭ মিটার রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ হয়নি ৮ মাসেও, অর্ধলাখ মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়কটির ৬৬৭ মিটার সংস্কারের জন্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করে সিলেট জেলা এলজিইডি প্রকৌশলী দপ্তর। এই কাজসহ প্যাকেজে ৪টি কাজ যৌথভাবে পায় জুয়েল ইলেকট্রনিক্স এবং টাওয়ার এন্টারপ্রাইজ লিমিডেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
কাজ পাওয়ার পর গত বছরের এপ্রিলের শেষার্ধে কাজটি শুরু করার কথা থাকলেও অক্টোবরের প্রথমার্ধে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। রাস্তার দুইপাশে ২ফুট করে বাড়িয়ে, দুই পাশে খাঁড়াইট বসানোর পর সড়ক খুঁড়ে অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়ে যায় সড়কটির বাকি সব কাজ। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারী, শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অচিরে এ পরিস্থিতির অবসান চান তারা। দীর্ঘ ৮ মাসেও কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকার মানুষ, গাড়ীর চালক, পথচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশলীর গাফিলতিকেই দায়ী করছেন। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান ইনকিলাবকে বলেন, পূর্বে বৃষ্টির জন্য কাজ করতে বারণ করেছি। এখন কাজ করতে বার বার বলছি কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জামাদি পর্যাপ্ত পাচ্ছে না।
শিক্ষার্থী কামরান, আবু সাঈদ, রাহুল, পূজা জানান, ২০২২ সালের প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও মডেল মসজিদ এবং উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের মালবাহী বড় বড় ট্রাকে রাস্তাটিকে মরণ ফাঁধে পরিনত করেছিল। কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লুকোচুরি করছে। কয়দিন কাজ করে আবার বন্ধ রাখে।
সড়কটির কাজের অগ্রগতি জানতে টাওয়ার এন্টারপ্রাইজ লিমিডেট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী তোফায়েল চৌধুরীকে মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নিয়ে বিপাকে আছে আমার ইউনিয়নের মানুষ। করবে করছি বলে গড়িমসি করছে ঠিকাদার। এধরনের লুকোচুরি বন্ধ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক মো. মেহেদী হাসান বলেন, জনসাধারণের মতো আমরাও ভোক্তভোগী এ সড়কটির জন্য। তাই অনতিবিলম্বে সড়কটি সংস্কার কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।
সিলেট জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, কাজ না করলে টেন্ডার বাতিল করে দেব। কাজ ফেলে রাখার দিন শেষ। এবিষয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের ওসমানীগঞ্জ বাজার থেকে পশ্চিম গৌরীপুর ইউপি সড়ক একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করার কথা থাকলে কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি উন্নতি নেই বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।