উল্লাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ :
যৌতুকের দাবিতে কলেজছাত্রী ও গৃহবধূ মোছাঃ রিয়া খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সোহেল রানার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী একে সরাসরি বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার ন্যাক্কারজনক অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
নিহত রিয়া খাতুন উল্লাপাড়া সরকারি আকবর আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক বাবদ তিন লাখ টাকা আদায়ের জন্য রিয়ার ওপর লাগাতার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে গত ৯ নভেম্বর নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই বর্বর হত্যাকাণ্ড গোটা এলাকায় মানবতা ও বিবেককে নাড়িয়ে দেয়।
এ ঘটনায় গত ১২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় নিহতের পরিবার সোহেল রানাসহ পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কিন্তু এমন ভয়াবহ অপরাধের পরও হত্যার প্রধান অভিযুক্তের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, এটি কেবল নিহত পরিবারের প্রতি নির্মম নিষ্ঠুরতা নয়, বরং নারীর প্রতি সহিংসতা ও হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার বিপজ্জনক বার্তা।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, আমাদের মেয়েকে হত্যা করে যারা বুক ফুলিয়ে দাঁড়াতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র যদি শক্ত অবস্থান না নেয়, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার বলে কিছু থাকবে না। এই মানববন্ধন আমাদের ক্ষতকে নতুন করে রক্তাক্ত করছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, স্ত্রী হত্যার মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালন করা আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তারা অবিলম্বে মানববন্ধনের আয়োজকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা ওসি তদন্ত রূপকর জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে।