কুমারখালীতে অসময়ে গড়াই নদীপাড়ে ভাঙন, ব্যাবস্থা নেয়নি পাউবো

আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৫ ০৬:২৭:৫৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৫ ০৬:২৭:৫৫ অপরাহ্ন
রফিকুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অসময়ে গড়াই নদীর তীরে আকস্মিক ভাঙন দেখা দিয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যাবস্থা নেয়নি পাউবো। 


এ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পৌরসভার তেবাড়িয়া ও আগ্রাকুণ্ডা এলাকার বাসিন্দারা। মূল স্রোত পাড় ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এতে পাড় ভেঙে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। 


জানা গেছে,  কুমারখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তেবাড়িয়ার শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আগ্রাকুণ্ডা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো বাঁধ নেই। এ অংশেই ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে হুমকিতে পড়েছে আরও অন্তত ৫০ বিঘা কৃষিজমি ও প্রায় ৩০০ পরিবারের বসতবাড়ি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের কথা বললেও গত চার-পাঁচ বছরে তেবাড়িয়া-আগ্রাকুণ্ডা এলাকায় কোনো কার্যক্রম হয়নি।
ফলে নদীর মাঝে চর জেগে উঠে পাড়ঘেঁষা স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভাঙন তীব্র হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, তেবাড়িয়া শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু থেকে আগ্রাকুণ্ডা এলাকার কৃষক ছেইমান শেখের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার নদীপাড় ক্রমাগত ধসে পড়ছে। নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে একটি সিসি ঢালাই সড়ক রয়েছে, যার পাশেই কয়েক শত কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি। বাড়ির পেছনের জমিতে সরিষা, ভুট্টা, তিল, পেঁয়াজসহ নানা ফসল চাষ করা হয়েছে। নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠায় কিনারা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং পাড় ধ্বসে পড়ছে।

আগ্রাকুণ্ডা গ্রামের কৃষক ছেইমান শেখ বলেন, বহু বছর পর এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফসলসহ প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন বসতবাড়ি নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি। সরকারি লোকজন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তেবাড়িয়া গ্রামের চা বিক্রেতা সমীর চাকী বলেন, নদী শুকিয়ে মাঝখানে চর পড়েছে। ফলে পাড় ঘেঁষে স্রোত বইছে এবং কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি, সড়ক, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের মুখে পড়েছে। তিনি দ্রুত পাকা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। তেবাড়িয়া শেরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোশাররফ হোসেন বলেন, নদীপাড়ে ২২ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড ঘাসের চাষ রয়েছে। ভাঙন ঘাসের জমির কাছাকাছি চলে এসেছে। স্থায়ী সমাধানে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।



এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, ভাঙনের বিষয়টি অবগত হয়েছেন। পাউবোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: রাশিদুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হলে, তিনি রিসিভ করেননি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]