সাইদুল ইসলাম বালাগঞ্জ সিলেট ক্রাইম রিপোর্টার প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা বেদখল থাকায় স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্কুলের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাধ্য হয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ৪৯ শতাংশ জায়গা উদ্ধারের জন্য আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট আওতাভুক্ত আঙ্গারুয়া ও নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে ১১৬ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ভূমি সমূহে গ্রামের কিছু লোক অন্যায়ভাবে বেদখল করে অবস্থান করছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বিদ্যালয়ের যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা থাকা সত্ত্বেও বেদখল থাকার কারণে নতুন ভবন স্থাপনের উদ্দ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না।
ইতিপূর্বে নতুন বিল্ডিং নির্মানের জন্য শাল্লা উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জায়গা বেদখল থাকায় বিল্ডিং নির্মানে অপারগতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য যে, ৪০ নং জেএল সংক্রান্ত সুখলাইন মৌজার আরএস ১৩৩৯ নং দাগের ০.১৭ একর ভূমির মধ্যে ০.১২ একরভূমি বিদ্যালয়ের নামে হাল রেকর্ড বিদ্যমান রয়েছে এবং ঐ মৌজার হাল রেকর্ডের ১/১ নং খতিয়ান দৃষ্টে দেখা যায় আরএস ১৩৩৮ নং দাগের সাকুল্য ০.৩৭একর ভূমিতে আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত।
এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডিয় ও দখলিয় বর্ণিত দুটি দাগের ০.৪৯ একর ভূমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা একান্ত প্রয়োজন।
জানতে চাইলে গ্রামের অভিযোগকারীরা জানান, আমরা বহুদিন যাবত বেদখল স্কুলের জায়গা উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছি। বর্তমানে স্কুলের যে বেহাল দশা এবং যেভাবে ভূমিকম্প হচ্ছে যেকোন মুহুর্তে বিল্ডিং ভেঙ্গে যেতে পারে। এর আগে আমরা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সাথে স্কুলের নতুন বিল্ডিং নির্মাণের কথা বলি। স্কুলের রেকর্ডভুক্ত ৪৯ শতাংশ জায়গা থাকলেও বেদখল হওয়ায় স্কুলের নতুন বিল্ডিং নির্মাণ হচ্ছেনা। তাই আমরা গ্রামবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্কুলের জায়গা উদ্ধারের অভিযোগ করেছি।
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজিত তালুকদার বলেন, স্কুলের অধিকাংশ জায়গা দখলে না থাকায় নতুন বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছেনা। আমরা এখন যে বিল্ডিংয়ে ক্লাস করছি এটা পুরাতন এবং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে যে হারে ভূমিকম্প হচ্ছে যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আঙ্গারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার রায় বলেন, আমি বিষয়টা অবগত আছি স্কুলের জায়গা উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র ঘোষ জানান, সরকারি স্কুলের জায়গা বেদখল থাকার কোন সুযোগ নেই। স্কুলের জায়গা উদ্ধারের জন্য আমাদের যা করণীয় অবশ্যই করব।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সার্ভেয়ার পাঠিয়ে বিদ্যালয়ের জায়গা কি অবস্থায় আছে দেখতে হবে। তারপর বেদখল হওয়া সরকারি বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধার করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।