নিজস্ব প্রতিবেদক
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম ৮ম শ্রেণীর একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী। ধৃত আসামির সাথে ফেসবুক ও ইমোর মাধ্যমে পরিচয় হয় এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে কথাবার্তা বলে আসছিলো। বিষয়টি ভিকটিমের পরিবার জানতে পেরে ধৃত আসামিকে একাধিকবার বাধানিষেধ করেন। এর ফলে ধৃত আসামি ক্ষিপ্ত হয়ে গত ইং ২৩/১১/২০২৫ তারিখ দুপুর ১২.৫৫ ঘটিকায় ভিকটিম স্কুলে যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানাধীন থানাঘাট ব্রীজের পশ্চিম পাশের রাস্তা থেকে আসামি এবং সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিগণ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের মাতা বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১৪, তারিখ-২৯ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০(সংশোধনী/২০২৫) এর ৭/৩০ ।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুর এর একটি আভিযানিক দল ইং ০৩/১২/২০২৫ তারিখ রাত ০২.৩০ ঘটিকায় লালমনিরহাট জেলার সদর থানাধীন বড়ুয়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুর থানার অপহরণ মামলার ভিকটিম উদ্ধারপূর্বক এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মোঃ সাকিব (২০), পিতা-মোঃ সাইদুল ইসলাম, সাং-পূর্ব আমবাড়ি, থানা-লালমনিরহাট সদর, জেলা-লালমনিরহাট‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ভিকটিম ও আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।