মোঃ আকতারুজ্জামান দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:
দেবীগঞ্জে প্রতিবেশী এক হিন্দু কিশোরের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, পাঁচ বছরের এক শিশু। বর্তমানে শিশুটি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত ১৭ বছর বয়সী ঐ কিশোরকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টার দিকে দেবীগঞ্জ পৌরসভা বাড়ির সামনে খেলছিল ভুক্তভোগী শিশু। অভিযুক্ত ঐ কিশোর ভুক্তভোগী শিশুটিকে খেলনা গাড়ি ও চকলেট কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাকে পাশের একটি হলুদ ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির কান্না শুনে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের উপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। অভিযোগ আছে, তারা শিশুটির বাসায় গিয়ে মারধরের হুমকিও দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন, গত ১৪ তারিখ আমি সারাদিন কাজে বাইরে ছিলাম। বাসায় ফিরে দেখি আমার মেয়েকে ঐ ছেলে ধর্ষণ করেছে। আমি তৎক্ষণাৎ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মেয়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসক তাকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
বর্তমানে সে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঐ ছেলের বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন যাতে আমি মামলা না করি। আমি রাজি না হওয়ায় তারা আমার বাসায় এসে মারধরের হুমকিও দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোয়েল রানা বলেন, শিশুটির বাবার এজাহার পাওয়ার পর বুধবার রাতেই একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। শিশুটি বর্তমানে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি রয়েছে। আসামিকে হেফাজতে নিতে পুলিশ কাজ শুরু করছে।