মুলাদী প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের সাহেবেরচর গ্রামের আশেদ ব্যাপারীর বাড়িতে সিরাজুল ইসলাম ওরফে রিপন ব্যাপারীর দুই চোখ তুলে নেয়ার ঘটনায় ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় ১২ ঘন্টার মধ্যে ১নং আসামী স্বপন ব্যাপারী গ্রেফতার।
গত ২৫ আগস্ট সোমবার রিপন ব্যাপারীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে বরিশাল মহানগর জজ আদালতে এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মুলাদী থানাকে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর) লেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিনের তত্ত¡াবধানে মুলাদী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলামের নির্দেশনায়, মুলাদী থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক মো. মাসুদ, থানা এসআই তদন্ত কর্মকর্তা মোমিন উদ্দিন মাধ্যমে একটি চৌকশদল আসামীদের ধরার জন্য রাত-দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২৭ আগস্ট ভোর রাতে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মসাং গ্রাম থেকে ১নং আসামী স্বপন ব্যাপারীকে তার শশুর বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে মুলাদী থানায় প্রেরণ করে।
ঘটনার বিবরণে জানাযায়, স্বপন ব্যাপারীর ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত রাখা ৩৫ লক্ষ টাকা ও ২০ ভরি স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়ায় রিপন ব্যাপারীকে মারধর করে চোখ উপরে ফেলছে বলে দাবি করেছেন রোকন ব্যাপারীর ছেলে আব্দুর রহমান। গত ২২ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে রিপন ঢাকা থেকে বাড়িতে গিয়ে রোকন ব্যাপারীর কাছে গচ্ছিত টাকা ও স্বার্ণালংকার চাইলে দিবেন না বললে উভয়ের মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়। রাত ১১টায় বাড়ি ফিরলে তাদের মধ্যে পুনঃরায় ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তার বাবা আর্শেদ ব্যাপারী ক্ষিপ্ত হয়ে রিপনকে মারধর করে ও চোখ উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। বাবার নির্দেশ পেয়ে রোকন ও স্বপন সহযোগীদের নিয়ে রিপনকে মারধর করে এবং দুই চোখ তুলে নিয়ে বাবার হাতে দিয়ে দেয়।
রিপনের স্ত্রী নুরজাহান বেগম জানান, তার স্বামী ঢাকায় থাকতেন। ঢাকায় থাকা অবস্থায় তার স্বামী রিপন ব্যাপারী বিভিন্ন সময়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করে নিরাপদে রাখার জন্য মেজ ভাই রোকন ব্যাপারীর কাছে জমা রাখতেন। রোকন ব্যাপারী ঐ টাকা দিয়ে তার ২ ছেলেকে বিদেশ পাঠায় ও জায়গা জমি ক্রয় করে।
থানা পুলিশের মাধ্যমে জানা যায়, রিপনের বিরুদ্ধে ঢাকার রমনা থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ৮টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া মুলাদী থানায় হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে।
১নং আসামী স্বপন ব্যাপারী গ্রেফতার হওয়ার পর মুলাদী থানায় বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মামলার ১২ ঘন্টার মধ্যে ১নং আসামী স্বপন ব্যাপারীকে গ্রেফতার করতে পেরেছি। বাকী আসামীদের ধরার জন্য ১টি পুলিশিটিম কাজ করে যাচ্ছে।
আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক রয়েছে। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা সমাজের আয়না। এ এলাকার মানুষ বিভিন্ন নেশার সাথে জড়িত। আপনাদের ছেলে ও ভাই যেন রাতের বেলায় কোথাও ঘোরাফেরা না করে। কাদের সাথে চলাফেরা করে তা লক্ষ্য রাখবেন।