
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি,
দ্রব্যমূল্যের অপ্রত্যাশিত ও ক্রমাগত উর্ধ্বগতি, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং মাহে রমজানকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাগত জানাতে একটি বিশাল র্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বানারীপাড়া উপজেলা শাখা। শুক্রবার আসরের নামাজ শেষ হওয়ার পর বানারীপাড়া বাজারের বাইতুন নাজাত জামে মসজিদের সামনে থেকে এ স্বাগত র্যালিটি বের হয়। মিছিলটি বন্দর বাজারের প্রধান সড়ক ধরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি বানারীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছায় এবং নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মাধ্যমে র্যালিটির সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষ হয়। এই পথসভায় জামায়াতের নেতৃবৃন্দরা রমজানের পবিত্রতা রক্ষার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রসঙ্গত, রমজান মাসে অনেক ব্যবসায়ী দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেন, যা রোজাদারদের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং রোজা রাখার পবিত্রতা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রশাসন এবং ব্যবসায়ীরা একযোগে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে সাধারণ মানুষ বিশেষত রোজাদাররা উপকৃত হবে। বিশেষ করে, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পথসভায় উপজেলা আমীর তাঁর বক্তৃতায় বলেন, "রমজান আসলেই কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি করে দেন। এই বিষয়ে প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দিনের বেলা হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে বন্দর বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "রমজানে রোজাদারদের খেদমতে নিত্যপণ্যের দাম যথেষ্ট পরিমান নিয়ন্ত্রণে রাখুন।"
এলাকাবাসী মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সৎ ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করবে এবং অসৎ সিন্ডিকেট ও মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এর ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে এক ধরনের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সমাজে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জামায়াতের নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনগণের প্রতি এই র্যালি এবং পথসভা একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে, জামায়াতে ইসলামী শুধু ধর্মীয় পবিত্রতাই রক্ষা করতে চায় না, বরং সামগ্রিকভাবে সমাজে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের উন্নতি ঘটানোর ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল দৃষ্টি রাখে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক খলিলুর রহমান শাহাদাত, সেক্রেটারি হাফেজ মোকাম্মেল হোসাইন মোজাম্মেল, উপজেলা বাইতুল মাল সম্পাদক মাস্টার আবুল হোসেন, পৌর আমীর কাওসার হোসাইন, পৌর সেক্রেটারি মোঃ ফয়জুল হক, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি হাফেজ মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম সহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ।
মূলত যদি প্রশাসন ও ব্যবসায়ীরা জনগণের স্বার্থে সচেতন থাকে, তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হবে এবং রোজাদারদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। বানারীপাড়া অঞ্চলে জামায়াতের এ ধরণের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত উচ্চ এবং এটি অনেক মানুষের উপকারে আসবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।