ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

আপলোড সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১১:২১:২৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১১:২১:২৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, বৈরুতে সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান আক্রমণের জবাবে তারা ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে লেবানন কর্তৃপক্ষ।

গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। বুধবার বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে চালানো এক হামলায় হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন। প্রায় এক মাসের মধ্যে ওই এলাকায় এটিই ছিল প্রথম বড় হামলা।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়, ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়া শহরের দক্ষিণে একটি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তারা বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননের গ্রাম ও বেসামরিক মানুষের ওপর আক্রমণের জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এর কয়েক ঘণ্টা পর হিজবুল্লাহ আরও জানায়, উত্তর ইসরাইলের আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোনের ঝাঁক পাঠানো হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, এটিও ইসরাইলি হামলার প্রতিক্রিয়া।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলার সময় উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং অন্যগুলো খোলা জায়গায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়।

অন্যদিকে, লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের চারটি এলাকায় ইসরাইলি হামলায় শুক্রবার অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও তিন নারী রয়েছে। এছাড়া লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে আরেক হামলায় তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণে তাদের একটি হামলায় হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ ‘লেবানিজ রেজিস্ট্যান্স ব্রিগেডস’-এর এক সদস্য নিহত হয়েছেন, যিনি উদ্ধারকর্মী হিসেবেও কাজ করতেন।

এদিকে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সাতটি শহরের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে টুরা শহরও রয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের নাবি শিত এলাকার কাছেও হামলা হয়েছে।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করেও তারা কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্য বা চলমান হামলা প্রতিহত করতে ইসরাইল ব্যবস্থা নিতে পারে।

এদিকে, উত্তেজনার মধ্যেই আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আলোচক দলের প্রধান সিমন কারামের সঙ্গে বৈঠক করে দেশটির অবস্থান তুলে ধরেন।

 

হিজবুল্লাহ এই সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে একে ‘পাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং বৈরুত সরকারকে আলোচনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

 

লেবাননের তথ্যমতে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

 

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংকট ব্যবস্থাপনাপ্রধান হাদজা লাহবিব বৈরুতে সাংবাদিকদের জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইইউ লেবাননকে ১০ কোটি ইউরো সহায়তা দিয়েছে এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে ছয়টি বিমান পাঠিয়েছে। সপ্তম বিমান শনিবার পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]