বাংলাদেশ ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :

সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,, সাংবাদিক নিয়োগ চলছে,,০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০, ০১৭১২-৪৪৬৩০৬,০১৭১১-০০৬২১৪ সম্পাদক

     
ব্রেকিং নিউজ ::
মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে উপাচার্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবন ছাড়ার আল্টিমেটাম কুবি শিক্ষার্থীদের রাবিতে জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ-বিজিবির ধাওয়া মেহেন্দিগঞ্জে অজ্ঞাতনামা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার। মুন্সীগঞ্জে গায়েবানা জানাযা থেকে ঈমাম ও বিএনপি নেতাকে ধরে নিয়ে গেলো পুলিশ কোটা আন্দোলনের পক্ষে সংহতি জানিয়ে ফেনী ইউনিভার্সিটির বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিবৃতি চলমান পরিস্থিতিতে রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি আপাতত স্থগিত: উপাচার্য বিদেশের পাঠানো টাকা চাইতে গিয়ে বিপাকে প্রবাসী স্বামী রাজশাহীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত চট্রগ্রামের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের জানাজায় মানুষের ঢল পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার রাস্তায় সমবায় সমিতি ভবনের ট্যাংকির ময়লা: জনদুর্ভোগ মুন্সীগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা, আহত ৫ হরিপুরে, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর পক্ষ থেকে কর্মী মিটিং ও গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত। গৌরীপুরে উদীচী কার্য়ালয়ে হামলা ও ভাংচুর স্ত্রীর যৌতুক মামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারাগারে

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বাবার নামটি অন্তর্ভূক্ত দেখতে চান মোছাঃ লাভলী খাতুন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩
  • ১৭৭৮ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বাবার নামটি অন্তর্ভূক্ত দেখতে চান মোছাঃ লাভলী খাতুন

মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জঃ
মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পেলেও একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে হতে পেরে নিজেকে গর্ব বোধ করেন সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মধ্য ভদ্রঘাট গ্রামের মোছাঃ লাভলী খাতুন। কয়েক দিন আগে মুক্তিযোদ্ধা সুজাবত আলী ওরফে আব্দুস সাত্তারের মেয়ে লাভলী খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সে সময় ২৫ শে মার্চ মধ্য রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন আমার বাবা আব্দুস সাত্তার ওরফে সুজাবত আলী সারাদিন সোনালী জুট মিলে দ্বায়িত্ব পালন করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
হঠাৎ চারদিকে গোলাগুলির শব্দে আর চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গলো। বাবা ভয়ে আতকে উঠলো। পাকিস্থানী বাহিনী নরপিচাশের দলরা রাতের অন্ধকারে অনেক লোকের প্রাণ নিয়ে নিলো। চারদিক শুধু যুদ্ধের আমেজ বিরাজ করছে। পৃথিবী যেন নিরব দৃষ্টিতে অবলকন করছে। বাবা বাড়িতে খবর নিলেন, সবাই কেমন আছে জানতে। শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দিলেন যুদ্ধের। তখন কর্ণেল আতাউল গনীর নেতৃত্বে গঠন করা হলো মুক্তিবাহীনী নামে একটা শক্তিশালী দল। নেমে পড়লেন যুদ্ধে।
চলছে দু পক্ষের লড়াই। ঝড়ে পড়লো হাজার হাজার লোকের প্রাণ। এ যেনো রক্তের বন্যা বয়ে চলছে চারদিক। আগুনের লিলাহীন শিখা দাও দাও করে জ্বলছে চারদিক। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো বাড়ীর কথা। বাবা কয়েক দিনের জন্য বাড়ী চলে এলেন ছায়াঘেরা সেই পলাশ ডাঙ্গাতে। বাড়ী এসে দেখেন, একই অবস্থা, চারদিকে চলছে শুধু রক্তের মিছিল।
পলাশডাঙ্গাতে আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে মুক্তিফৌজ বাহিনীতে যোগ দিলেন আমার বাবা আব্দুস সাত্তার ওরফে সুজাবত আলী। লাভলী খাতুন আরও জানান, আমার দাদা চান্দুল্লা প্রামানিক ছিলেন তখনকার গ্রামের মাতব্বর। আমার দাদার ছিল ৬ পুত্র এক কন্যা। মুক্তিফৌজ বাহিনী এসে আমার দাদাকে বললেন, দুইজন ছেলেকে দিতে হবে আমাদের বাহিনীতে।
দাদা ভয়ে প্রথমে জবাব না দিলেও পরেক্ষনেই রাজি হয়ে গেলো। শুরু হয়ে গেলো দু’ পক্ষের গোলাগুলি। গ্রামের অনেক ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন হানাদার বাহিনী। আমার মার দাদার বাড়িটি ছিলো প্রথম টার্গেট। কারণ তার দুই ছেলেই ছিলো মুক্তিফৌজে পলাশডাঙ্গা থেকে সূদূর দক্ষিণে অলিপুর নামক স্থানে আমার আর অনান্য চাচাকে সহ পরিবারের সবাইকে নিরাপদে রেখে আসতে বললেন বাবা।
রক্ত মিছিলতো চলছেই, এর মধ্যই কয়েকটা গরু নিতে এসে হানাদার, পশুদের গুলিতে আমার চাচা আব্দুল গফুরকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।  তাকে দেখতে ও মাটি দিতে আসতে পারিনি কেউ। শিয়াল কুকুর রাতভর দেহকে ছিন্ন বিছিন্ন করে খেয়েছে। শরীরের এক এক জায়গায় এক এক টুকরা মাংস, কলিজা, পড়ে আছে। কি মর্মান্তিক পরিবেশ! বলতে গেলে গাঁ শিউরে ওঠে। সে সময় যার প্রিয়জন চলে গেছে তারাই শুধু বলতে পারে প্রিয়জন হারানোর ব্যথা। আমার চাচিটা তো শুনেই অর্ধ পাগল হয়ে গেছে। এখনো সে বেঁচে আছে স্বামীহারা হয়ে।
লাভলী খাতুন ভাঙ্গা কন্ঠে আরও জানান, হানাদার পশুরা আমার বাবার দাদিমার ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিবে, এমন সময় আমার বাবার দাদিমা ঘরের কোণ থেকে ভয়ে ভয়ে বেড়িয়ে এসে পবিত্র কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে ওদেরকে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি বুড়ি মানুষ। আমাকে মেরনা, আর আমার এই ঘরটুকু জ্বালিয়ে দিওনা। আমার নাতিকে তোমরা গুলি করে মেরে ফেলেছো। পশুরা কি ভেবে বাবার দাদিমাকে আর মারেনি। চলছে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ।
আমার বাবা আর চাচা যুদ্ধ শেষ করে বাড়ি ফিরলেন বিজয় নিয়ে। এসে ভাই হারানোর বেদনায় পুরো পরিবার যেনো শোকে কাতর। পরর্বতীতে যুদ্ধ শেষে বিহারী নামক নরপিচাশ ও যুদ্ধে বাধাদানকারী ও পাকিস্থানী বাহিনীদের সাহায্যকারী আমাদের দেশীয় দালাল রাজাকারদের নিধন করেন। পরে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান আমার বাবা। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে  অংশগ্রহণ করেন। পরর্বতীতে দীর্ঘ সতের বছর চাকরী রত অবস্থায় রাজনৈতিক  ঝামেলার কারণে চাকরীচ্যুত হন।
ফিরে আসেন ছায়াঘেরা সেই পলাশডাঙ্গাতে। চাকরীচ্যুত হওয়ার পর সংসারের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে আমার বাবা নিজের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আছে কিনা জানতে পারেনি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আব্দুস সাত্তার নামে কামারখন্দে অনেক তালিকাই ছিলো। কিন্তু আমার বাবার নাম কোন তালিকায় রয়েছে? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।
আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কোনো সম্মান পাননি। বড় অবহেলায় আমার বাবা অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মনে অনেক কষ্ট নিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমার বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা।কিন্তু অর্থের অভাবে বাবাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিতে পারিনী। এখানে না বললেই নয়! আমার বাবা কিন্তু  শুরু  থেকেই শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে রাজনীতিতে জড়ীত ছিললেন। প্রত্যকটা মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন, ছয় দফা আন্দোলন থেকে ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান  আরো অনেক আন্দোলনে।
ঢাকা রেসকোর্স ময়দানেও উপস্থিত ছিলেন। বাবার কাছে থাকা কিছু  কাগজ পত্র সে সময় ট্রেন ডাকাতে সব হারিয়ে যায়। বাবাকে মেরে সব ছিনিয়ে নিয়েছে। বাবা অজ্ঞান অবস্খায় তিন দিন পর জ্ঞান ফিরে পান।স্বাধীনতার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। তাই বাবার না পাওয়া, না বলা কথাগুলো আমাকে আজও কষ্ট দেয়। যদিও আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। তার পরেও মুক্তিযোদ্ধার একজন মেয়ে হয়ে নিজেকে গর্ব বোধ করি। এমতাবস্থায় বাবার নামটা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন করেন সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মধ্য ভদ্রঘাট গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুজাবত আলী ওরফে আব্দুস সাত্তারের কন্যা মোছাঃ লাভলী খাতুন।
আপলোডকারীর তথ্য

Banglar Alo News

hello
জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জ সদর ইউএনওর চরডুমুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন

মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় বাবার নামটি অন্তর্ভূক্ত দেখতে চান মোছাঃ লাভলী খাতুন

আপডেট সময় ০৬:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৩
মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জঃ
মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পেলেও একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে হতে পেরে নিজেকে গর্ব বোধ করেন সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মধ্য ভদ্রঘাট গ্রামের মোছাঃ লাভলী খাতুন। কয়েক দিন আগে মুক্তিযোদ্ধা সুজাবত আলী ওরফে আব্দুস সাত্তারের মেয়ে লাভলী খাতুনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সে সময় ২৫ শে মার্চ মধ্য রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন আমার বাবা আব্দুস সাত্তার ওরফে সুজাবত আলী সারাদিন সোনালী জুট মিলে দ্বায়িত্ব পালন করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
হঠাৎ চারদিকে গোলাগুলির শব্দে আর চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গলো। বাবা ভয়ে আতকে উঠলো। পাকিস্থানী বাহিনী নরপিচাশের দলরা রাতের অন্ধকারে অনেক লোকের প্রাণ নিয়ে নিলো। চারদিক শুধু যুদ্ধের আমেজ বিরাজ করছে। পৃথিবী যেন নিরব দৃষ্টিতে অবলকন করছে। বাবা বাড়িতে খবর নিলেন, সবাই কেমন আছে জানতে। শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দিলেন যুদ্ধের। তখন কর্ণেল আতাউল গনীর নেতৃত্বে গঠন করা হলো মুক্তিবাহীনী নামে একটা শক্তিশালী দল। নেমে পড়লেন যুদ্ধে।
চলছে দু পক্ষের লড়াই। ঝড়ে পড়লো হাজার হাজার লোকের প্রাণ। এ যেনো রক্তের বন্যা বয়ে চলছে চারদিক। আগুনের লিলাহীন শিখা দাও দাও করে জ্বলছে চারদিক। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো বাড়ীর কথা। বাবা কয়েক দিনের জন্য বাড়ী চলে এলেন ছায়াঘেরা সেই পলাশ ডাঙ্গাতে। বাড়ী এসে দেখেন, একই অবস্থা, চারদিকে চলছে শুধু রক্তের মিছিল।
পলাশডাঙ্গাতে আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে মুক্তিফৌজ বাহিনীতে যোগ দিলেন আমার বাবা আব্দুস সাত্তার ওরফে সুজাবত আলী। লাভলী খাতুন আরও জানান, আমার দাদা চান্দুল্লা প্রামানিক ছিলেন তখনকার গ্রামের মাতব্বর। আমার দাদার ছিল ৬ পুত্র এক কন্যা। মুক্তিফৌজ বাহিনী এসে আমার দাদাকে বললেন, দুইজন ছেলেকে দিতে হবে আমাদের বাহিনীতে।
দাদা ভয়ে প্রথমে জবাব না দিলেও পরেক্ষনেই রাজি হয়ে গেলো। শুরু হয়ে গেলো দু’ পক্ষের গোলাগুলি। গ্রামের অনেক ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দিলেন হানাদার বাহিনী। আমার মার দাদার বাড়িটি ছিলো প্রথম টার্গেট। কারণ তার দুই ছেলেই ছিলো মুক্তিফৌজে পলাশডাঙ্গা থেকে সূদূর দক্ষিণে অলিপুর নামক স্থানে আমার আর অনান্য চাচাকে সহ পরিবারের সবাইকে নিরাপদে রেখে আসতে বললেন বাবা।
রক্ত মিছিলতো চলছেই, এর মধ্যই কয়েকটা গরু নিতে এসে হানাদার, পশুদের গুলিতে আমার চাচা আব্দুল গফুরকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।  তাকে দেখতে ও মাটি দিতে আসতে পারিনি কেউ। শিয়াল কুকুর রাতভর দেহকে ছিন্ন বিছিন্ন করে খেয়েছে। শরীরের এক এক জায়গায় এক এক টুকরা মাংস, কলিজা, পড়ে আছে। কি মর্মান্তিক পরিবেশ! বলতে গেলে গাঁ শিউরে ওঠে। সে সময় যার প্রিয়জন চলে গেছে তারাই শুধু বলতে পারে প্রিয়জন হারানোর ব্যথা। আমার চাচিটা তো শুনেই অর্ধ পাগল হয়ে গেছে। এখনো সে বেঁচে আছে স্বামীহারা হয়ে।
লাভলী খাতুন ভাঙ্গা কন্ঠে আরও জানান, হানাদার পশুরা আমার বাবার দাদিমার ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিবে, এমন সময় আমার বাবার দাদিমা ঘরের কোণ থেকে ভয়ে ভয়ে বেড়িয়ে এসে পবিত্র কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে ওদেরকে কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি বুড়ি মানুষ। আমাকে মেরনা, আর আমার এই ঘরটুকু জ্বালিয়ে দিওনা। আমার নাতিকে তোমরা গুলি করে মেরে ফেলেছো। পশুরা কি ভেবে বাবার দাদিমাকে আর মারেনি। চলছে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ।
আমার বাবা আর চাচা যুদ্ধ শেষ করে বাড়ি ফিরলেন বিজয় নিয়ে। এসে ভাই হারানোর বেদনায় পুরো পরিবার যেনো শোকে কাতর। পরর্বতীতে যুদ্ধ শেষে বিহারী নামক নরপিচাশ ও যুদ্ধে বাধাদানকারী ও পাকিস্থানী বাহিনীদের সাহায্যকারী আমাদের দেশীয় দালাল রাজাকারদের নিধন করেন। পরে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান আমার বাবা। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধে  অংশগ্রহণ করেন। পরর্বতীতে দীর্ঘ সতের বছর চাকরী রত অবস্থায় রাজনৈতিক  ঝামেলার কারণে চাকরীচ্যুত হন।
ফিরে আসেন ছায়াঘেরা সেই পলাশডাঙ্গাতে। চাকরীচ্যুত হওয়ার পর সংসারের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে আমার বাবা নিজের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় আছে কিনা জানতে পারেনি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আব্দুস সাত্তার নামে কামারখন্দে অনেক তালিকাই ছিলো। কিন্তু আমার বাবার নাম কোন তালিকায় রয়েছে? আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।
আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কোনো সম্মান পাননি। বড় অবহেলায় আমার বাবা অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মনে অনেক কষ্ট নিয়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আমার বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করা।কিন্তু অর্থের অভাবে বাবাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিতে পারিনী। এখানে না বললেই নয়! আমার বাবা কিন্তু  শুরু  থেকেই শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে রাজনীতিতে জড়ীত ছিললেন। প্রত্যকটা মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন, ছয় দফা আন্দোলন থেকে ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থান  আরো অনেক আন্দোলনে।
ঢাকা রেসকোর্স ময়দানেও উপস্থিত ছিলেন। বাবার কাছে থাকা কিছু  কাগজ পত্র সে সময় ট্রেন ডাকাতে সব হারিয়ে যায়। বাবাকে মেরে সব ছিনিয়ে নিয়েছে। বাবা অজ্ঞান অবস্খায় তিন দিন পর জ্ঞান ফিরে পান।স্বাধীনতার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। তাই বাবার না পাওয়া, না বলা কথাগুলো আমাকে আজও কষ্ট দেয়। যদিও আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। তার পরেও মুক্তিযোদ্ধার একজন মেয়ে হয়ে নিজেকে গর্ব বোধ করি। এমতাবস্থায় বাবার নামটা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন করেন সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মধ্য ভদ্রঘাট গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা সুজাবত আলী ওরফে আব্দুস সাত্তারের কন্যা মোছাঃ লাভলী খাতুন।